বঙ্গবন্ধু’র জন্মশতবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু হলের সামনে মুজিব ও মুক্তির আহবান নামে মুর‌্যাল উদ্বোধন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে  জাতির  পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয়  শিশু দিবস-২০২০ উপলক্ষ্যে আয়োজিত  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষনের প্রতিকৃতি  মুক্তির আহবান ও শ^াশত মুজিব নামে দুটি মনোমুগ্ধকর মুর‌্যালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. তপন কুমার জোদ্দার এর সভাপতিত্বে  প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন,  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে আমাদের সকলের দায়িত্ব হবে বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও কর্মকে তুলে ধরা। তিনি বলেন, বাঙালী জাতির মুক্তির অংকুরগম হয়েছিল জাতির পিতা  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের মধ্যদিয়ে। তিনি  গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহন না করলে বাঙালি জাতি তার দীর্ঘদিনের শোষন, বঞ্চনা হতে মুক্তি পেত না। তিনি পুরো জাতিকে দীর্ঘ ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের পথ ধরে সুদীর্ঘ নয়মাস গনযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত করেছিল স্বপ্নের সোনার বাংলাকে। ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, পৃথিবীতে অনেক বড় বড় নেতা রয়েছে যেমন চীনে মাও সেতুং, জামার্নিতে বিসমার্ক, দক্ষিন আফ্রিকাই নেলসন ম্যান্ডেলা, ইন্দোনেশিয়াই মেঘবতী সুকর্ণপতি, মালোয়েশিয়ায় মাহাথির মোহাম্মদ, ভারতে মাহাত্মা গান্ধি ঠিক তেমনি আমাদের দেশে ইতিহাসের পাতায় স্বর্নাক্ষরে লেখা রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। তিনি নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্ম, আর্দশ ও চেতনাকে ধারন করে  অসাম্প্রদায়িক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের  চেতনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় গড়ে তুলবার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। এজন্য বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, আজকের এই দিন শুধু বাঙালী জাতির জন্য নয় বরং সকল বাঙালী ভাষাভাষী মানুষের জন্য কারন বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে এই দেশ কখনোই স্বাধীন হতো না। তাই যতদিন বাংলদেশ থাকবে ততদিন বাঙালি জাতির মুক্তি দিশারী হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর স্মৃতি আদর্শ বংশ পরমপরায় চলে আসবে। তিনিই দেখিয়েছিলেন যে, বাঙালি জাতি বীরের জাতি। তাদেরকে শত বাধা বিপত্তি ঠেকিয়ে রাখা যায় না। প্রো ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন মানবিক গুনাবলীতে অতুলনীয়। তিনি সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষ পছন্দ করতেন না এজন্য  তিনি সাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী মুসলিম লীগ থেকে বেরিয়ে এসে আওয়ামীলীগ গঠন করেছিলেন। তার দেখানো পথ ধরে বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরসূরী সুযোগ্য তনয়া জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আজ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিনত করেছে। তার বলিষ্ঠ, সাহসী ও দৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে এসেছে। তাই ভিশণ ২০-২১ এবং রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ অচিরেই পৃথিবীর কাছে উন্নত দেশ হিসাবে পরিগনিত হবে। এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. সেলিম তোহা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে শুধু ম্যুরালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করলে হবে না বরং তাঁর আর্দশ, কর্ম ও চেতনাকে আমাদের সকলের মেধা ও মননে ধারন করতে হবে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে তা ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড.  কাজী আকতার হোসেন, প্রফেসর ড. রুহুল কে এম সালেহ, প্রক্টর প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ,  ছাত্র- উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোহাঃ সাইদুর রহমান, প্রফেসর ড. মোঃ জাকারিয়া রহমান, প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান, প্রফেসর ড. মোহাঃ মেহের আলী, প্রফেসর ড. সেলিনা রহমান, প্রফেসর ড. আতিকুর রহমান, প্রফেসর ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ, ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক(ভারঃ) এ এইচ এম আলী হাসান, হিসাব পরিচালক (ভারঃ) ছিদ্দিক উল্যাহ, উপ-রেজিস্ট্রার মীর মোঃ জিল্লুর রহমান, সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি আব্রাহাম লিংকন, সাধারন কর্মচারী সমিতির সভাপতি আতিয়ার রহমানসহ সর্বস্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রবৃন্দ। এর আগে  সরকার কর্তৃক নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে জনসমাগম এড়িয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করার নিদের্শনা দেওয়ায় এ বছর স্বল্প পরিসরে মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল  সাড়ে ৯টায় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী এর নেতৃত্বে প্রশাসন ভবন চত্বর হতে স্বল্প পরিসরে আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার  প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা, ভারপ্রাপ্ত  রেজিস্ট্রার  এস এম আব্দুল লতিফ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, চেয়ারম্যান, প্রভোস্ট, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, বিভাগীয় প্রধানসহ সর্বস্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং ইবি শাখা ছাএলীগের সকল স্তরের নেতা কর্মী ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে “মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব মুর‌্যালে” এর পাদদেশে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা, রেজিস্ট্রার(ভারঃ) এস.এম আব্দুল লতিফ এবং “মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব মুর‌্যালে”র অর্থায়নকারী বিশ^বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাবেক ছাত্র ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোঃ জালাল উদ্দিন তুহিন। সংক্ষিপ্ত আলোচনা পরিচালনা করেন  ৭, ১৭ ও ২৬ মার্চ উদযাপন কমিটির আহবায়ক ও সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান। দিনের অনুষ্ঠানসূচীর মধ্যে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রেস কর্ণারে প্রেসক্লাবের আয়োজনে “খবরের পাতায় বঙ্গবন্ধু” শীর্ষক ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ কর্মময় সময়ের অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পত্রিকার কাটিং বিলবোর্ডে স্থান পায়। উদ্বোধন করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা। এছাড়া প্রকৌশল অফিসের উদ্যোগে প্রকৌশল অফিসের সামনে বঙ্গবন্ধু উপরে লেখা বিভিন্ন ঐতিহাসিক বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন  ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা। পরে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আরো খবর...