বঙ্গবন্ধুর আর্দশের এক নিবেদিত প্রাণ সৈনিক জাহিদ হোসেন জাফর

নিজ সংবাদ ॥ জাহিদ হোসেন জাফর। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের আর্দশের এক নিবেদিত প্রাণ সৈনিক। বয়স সত্তরের কোটা পেরিয়েছে অনেক আগেই। এ বয়সে এসেও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অগ্রভাগের সৈনিক জাহিদ হোসেন জাফর আজও আওয়ামী লীগের জন্য নিবেদিত প্রাণ। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ঘাতকের বুলেটে সপরিবারে নিহত হওয়ার পর স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানের সামরিক বাহিনীর হাতে কুষ্টিয়ায় প্রথম যে মানুষটি আটক হয়েছিলেন, তিনি হলেন এই জাহিদ হাসেন জাফর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান ঘাতকদের হাতে সপরিবারে নিহত হন। এ জঘন্য হত্যার প্রতিবাদে জাহিদ হোসেন গোপনে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে শুরু করে দেন। ১৯৭৫ সালের আজকের এইদিনে (২৭ সেপ্টেম্বর) তৎকালীন  সেনাপ্রধান (পরবর্তীতে স্বৈরশাসক) জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনী মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের দমন শুরু করে। এর অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া জেলার মধ্যে সর্বপ্রথম জাহিদ হোসেন আটক করে। বঙ্গবন্ধুর এই সৈনিককে আটকের পর ৪৯ দিন টর্চার সেলে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। পরবর্তীতে প্রায় এক বছর তাকে ডিটেনশনে আটক রাখা হয়। ১৯৭৬ সালের ১৮ নভেম্বর ১৩ মাস ২২ দিন পর অসুস্থ অবস্থায় জাফরকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারাভোগকালীন সময়ে তিনি অমানুষিক নির্যাতনে শারীরিক ও মানসিকভাবে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন। সেই নির্যাতনের ভয়বহতা এতটায় পৈশাচিক ছিল, যে আজ ৪৫ বছর পর সে কথা ভেবে শিউরে ওঠেন জাহিদ হোসেন জাফর। বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহিদ হোসেন জাফরের রাজনৈতিক জীবনও বেশ বর্ণাঢ্য। তিনি ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়া ছিলেন। তিনি একাধারে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। জেলার রাজনীতিতেও তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। জাফর কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি ও যুগ্ম-আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে সফলভাবে ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন। দলের দুর্দিনে প্রতিবাদী কন্ঠস্বর জাহিদ হোসেন জাফরকে লোভ আর দুর্নীতি কখনও আকৃষ্ট করতে পারেনি। মহান মুক্তিযুদ্ধেও রয়েছে তার অসামান্য ভূমিকা। তিনি যুদ্ধকালীন জেলা মুজিব বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হয়। জাহিদ হোসেন জাফর জানান, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন কর্মী হিসেবে তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজীবন কাজ করে যেতে চাই।’

আরো খবর...