ফিলিপিকে নিয়ে গিলক্রিস্টের আশা অনেক

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ দুজনই কিপার-ব্যাটসম্যান, ঘরানাও একই। অ্যাডাম গিলক্রিস্টের কাছে আগ্রাসনই ছিল শেষ কথা। জশ ফিলিপি একই পথের পথিক। সম্ভাবনাময় এই তরুণ ব্যাটসম্যানকে নিয়ে গিলক্রিস্টের আশা অনেক। তার মতে, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং সমস্যার সমাধান হতে পারেন ফিলিপি। ২০১৭ বিগ ব্যাশ দিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের শীর্ষ পর্যায়ে পা রাখেন ফিলিপি। তবে সাড়া জাগান মূলত গত বিগ ব্যাশের পারফরম্যান্সে। টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪৮৭ রান করেছিলেন তিনি প্রায় ১৩০ স্ট্রাইক রেটে। সিডনি সিক্সার্সের শিরোপা জয়ে ছিলেন ফাইনালের ম্যান অব দা ম্যাচ। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারে সমস্যা খুব একটা নেই। তারা ধুঁকছে মূলত মিডল অর্ডারে ও ফিনিশার পাওয়া নিয়ে। ফিলিপি সীমিত ওভারে ব্যাট করেন টপ অর্ডারেই, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মিডল অর্ডারে। গিলক্রিস্ট তাতে সমস্যার কিছু দেখছেন না। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শুরুর আগে এই কিংবদন্তি জানালেন ফিলিপির সামর্থ্যে তার প্রবল আস্থার কথা। “আমার মতে, একটি ছেলে আমাদের সমস্যার খুব ভালো সমাধান হতে পারে, সেটা এক-দুইয়ে ব্যাট করেই হোক বা মিডল অর্ডারে সুযোগ পেয়ে, জশ ফিলিপি। জন্ম ও বেড়ে ওঠা পার্থে, ওর বাবাকে আমি খুব ভালো করে চিনি। ২০ বছর তিনি ওয়াকা মাঠে কাজ করেছেন।” “খুবই রোমাঞ্চকর তরুণ এক প্রতিভা সে। যদিও এখনও শিখছে, নিজের সম্পর্কে, নিজের সামর্থ্য এবং ম্যাচ পরিস্থিতির মতো ব্যাপারগুলি বোঝার চেষ্টা করছে। তবে যত দ্রুত এই ধরনের ক্রিকেটারদের শীর্ষ পর্যায়ে নামিয়ে দেওয়া যায়, ভয়ডরহীন ক্রিকেট দিয়ে অনেক দলকেই বিপাকে ফেলে দিতে পারে ওরা। এতে ওর আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।” মূলত ব্যাটিংয়ের ধরনেই নজর কেড়েছেন ২৩ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটসম্যান। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এখন তার স্ট্রাইক রেট ১১১.৭৭, টি-টোয়েন্টিতে ১৩৮.৩০। গিলক্রিস্টের মতে, এমন ক্রিকেটারদেরই অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন। ইংল্যান্ড সীমিত ওভারের দল যেভাবে বদলে গেল, সেই মানসিকতা নিজেদের দলেও দেখতে চান তিনটি বিশ্বকাপ জয়ী সাবেক এই ক্রিকেটার। “সে দারুণ আগ্রাসী এক তরুণ ক্রিকেটার। বিশ্বকাপের আগে চার বছর ধরে যে ধরনের ক্রিকেট খেলে ইংল্যান্ড শীর্ষে উঠেছে, নেতৃত্ব থেকে শুরু করে ব্যাটিংয়ের মানসিকতায় যে বদল, যেভাবে তারা সবসময় আক্রমণ করতে চায়ৃকখনও কখনও সেটা কাজে দেবে না। কিন্তু একটি বার্তা দেওয়া যায়। ফিলিপির মতো একজন হতে পারে সেটির অনুঘটক।” অস্ট্রেলিয়ার চলতি ইংল্যান্ড সফরের স্কোয়াডে আছেন ফিলিপি। তবে শিগগিরই গিলক্রিস্টের চাওয়া পূরণ হচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ জানিয়ে দিয়েছেন, শুক্রবার ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে দল আস্থা রাখছে ধুঁকতে থাকা কিপার-ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স কেয়ারির ওপরই। ফিনিশারের ভূমিকায় আবার সুযোগ দেওয়া হবে মিচেল মার্শকে।

আরো খবর...