প্রসঙ্গ ঃ দরিদ্র পরিবারকে অর্থ সহায়তা

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে চলমান অচলাবস্থায় সারা দেশের ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে এককালীন আড়াই হাজার টাকা করে দেবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে সরাসরি নগদ অর্থ প্রেরণ করা হবে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মোবাইল ব্যাংকিং পরিসেবার মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের মোবাইল হিসাবে সরাসরি নগদ অর্থ প্রেরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথমদিন ১০ লাখ পরিবারকে এ অর্থ দেয়া হয়েছে। এর পরবর্তী চারদিন ৪০ লাখ পরিবারকে এ অর্থ দেয়া হবে। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, মে এবং জুন এই দুই মাসে ৫০ লাখ পরিবার এই অর্থ সুবিধা পাবে। বিকাশ, নগদ, ক্যাশ, রকেটের মাধ্যমে পরিবারগুলোর কাছে টাকা পৌঁছে যাবে। এজন্য ইতিমধ্যে ১ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সহায়তার এ অর্থ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিনা খরচে প্রত্যেক পরিবারের হাতে ঈদের আগে পৌঁছে দেওয়া হবে। সরকারের এ কাজে সহযোগিতা করবে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সেবাদানকারী চার প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো- বাংলাদেশ ডাক বিভাগের আর্থিক লেনদেন সেবা ‘নগদ’, ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মোবাইল ব্যাংকিং ‘বিকাশ’, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ‘রকেট’ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের শিওরক্যাশ। আমরা মনে করি করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই উদ্যোগ ইতিবাচক। তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিকরাও। এটা সত্য, দেশ দীর্ঘ ছুটিতে থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে শ্রমজীবীরা। তাদের ঘরে এখন খাবার নেই। এই অবস্থায় সরকার তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, উদ্যোগটির সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দুর্যোগব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ। আর পরিবার চিহ্নিত করা হয়েছে স্থানীয় সরকার অর্থাৎ জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের সাহায্যে। তালিকায় রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক, কৃষিশ্রমিক,  দোকানের কর্মচারী, ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসায় কর্মরত শ্রমিক,  পোলট্রি খামারের শ্রমিক, বাস-ট্রাকসহ পরিবহণ শ্রমিক, হকারসহ নানা  পেশার মানুষকে রাখা হয়েছে। সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সহায়তায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী বর্তমানে যেসব সহায়তা পাচ্ছে, এ তালিকায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আমরা জানি এই সরকার দরিদ্রবান্ধব। এই সরকারের নানা ইতিবাচক উদ্যোগের কারণে দেশে দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়েছে। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় অনেক আগে থেকেই দেশের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। এবার করোনাকালে সরকার বিভিন্ন খাতে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, সরকার কর্মহীন হতদরিদ্রদের জন্য যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বরাদ্দ করেছিল,  সে চাল আত্মসাৎ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও তাদের নিয়োগকৃত ডিলাররা। এজন্য অবশ্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অর্ধশতাধিক জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করেছে। যৌক্তিক কারণেই এই অর্থ উপকারভোগীদের কাছে সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পৌঁছে যাবে। যাতে এই উদ্যোগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, করোনা পরিস্থিতি স্থায়ী আসন গেড়ে বসতে পারে, যা বিশ্বের জন্য একটি বিপজ্জনক বার্তা। সুতরাং এ থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়। সুতরাং সরকারকে সহযোগিতার হাত আরও প্রসারিত করতে হবে। এই তালিকা আরও বাড়ানো যায় কিনা ভেবে  দেখতে হবে তাও। কার্যকর ও পরিকল্পিত উদ্যোগই কেবল পারে দেশের গরিব মানুষকে এ দুর্যোগের সময় বাঁচাতে।

আরো খবর...