প্রসঙ্গ ঃ করোনাকালের বাজেট

বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ চলছে। এটি একটি ভিন্ন বাস্তবতায় প্রণীত হতে চলেছে। করোনা ভাইরাসের ফলে বিশ্বব্যাপী যে পরিস্থিতি উদ্ভব হয়েছে তা মানুষের সামাজিক জীবনকে যেমন বিপর্যস্ত করেছে,  তেমনি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকেও বিরাট চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়েছে। বাংলাদেশের মতো দ্রুত উন্নয়নশীল একটি দেশকে বড় রকমের ক্ষতির মধ্যদিয়ে যেতে হবে। সেই অনুযায়ী বাজেটও প্রণয়ন করতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে জিডিপি ৫ শতাংশের বেশি হবে না বলে মনে করা হচ্ছে, যেহেতু বাজেট ঘাটতি বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতিসহ চলতি বছরের বাজেটের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা। আশা করা হয়েছিল, আগামী অর্থবছরের বাজেট হবে ৫ লাখ ৯০ হাজার  কোটি টাকায়। কিন্তু বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে এটি কাটছাঁট করতে হচ্ছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জীবনরক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। সে জন্য আগামী বছরের বাজেটে খাদ্যবান্ধব নানা রকম কর্মসূচি চলমান থাকবে। কোভিড-১৯ সংক্রমণের পর থেকে সরকার চার কোটি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়ে এসেছে, এ ধারা অব্যাহত থাকবে। চলতি বছরে খাদ্য সহায়তা, কৃষিক্ষেত্রে প্রণোদনা, শিল্প খাতে সহজ শর্তে ঋণ এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ১ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী বাজেটেও এ ধারা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলতি বছরের মতো আগামী অর্থবছরেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি কমানো হলেও মেগা প্রকল্পগুলো চালু রাখার ব্যাপারে সরকার এখনো ইতিবাচক রয়েছে। এর মধ্যে পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ, ঢাকা  মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিবছর বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প খাতে ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ বরাদ্দ বেড়ে থাকে। কিন্তু এবার তা ৩  থেকে ৪ শতাংশে সীমিত থাকবে। তার অর্থ হলো, মেগা প্রকল্পের বাইরে অন্যান্য উন্নয়ন কর্মসূচি বেশিরভাগই স্থগিত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন করোনাপরবর্তী বিশ্বে বাংলাদেশের শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারের ওপর। এ জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সবাই উপলব্ধি করছি, চলতি বছরে সরকারের রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি অন্যবারের  চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে। এর পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। আগামী বছরেও এই ঘাটতি বহমান থাকবে এবং আরও বাড়ার আশঙ্কাই বেশি। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, সরকারের আয় কমলেও জনজীবনকে স্বস্তিতে রাখার জন্য সরকারকে ব্যয় বাড়াতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে প্রয়োজনে ঋণ করতে হবে। মোট কথা, আগামী দিনগুলোয় অর্থনীতি অত্যন্ত চাপের মধ্যে থাকবে। এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া খুব সহজ হবে না। সরকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে যেন  কেউ খাদ্যাভাবে মারা না যায়। পাশাপাশি দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনেকের জীবিকার পথগুলো খুলে দিতে হবে। বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশে চলতি মাসে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকবে। ফলে এই সময়ে জীবিকার পথ খোলার সম্ভাবনা কম। তার অর্থ হচ্ছে, সরকারি খাদ্য সাহায্য কর্মসূচি আরও  জোরদার করতে হবে এবং আরও কিছুদিন চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি থাকতে হবে। এই দুঃসময়ে অতিক্রম করার জন্য জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। আমরা মনে করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে এ কাজে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব।

আরো খবর...