প্রধানমন্ত্রী কথা রাখেননি- দুদু

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কথা রাখেননি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বলেছিলেন, উন্নত গণতন্ত্র দেবেন, দশ টাকা সের চাল খাওয়াবেন, ঘরে ঘরে চাকরি দেবেন, কৃষকদের ফ্রি সার দেবেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা আছে না- কেউ কথা রাখেনি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কথা রাখেননি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা এবং গণতন্ত্রের মুক্তি কোন পথে?’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে তারেক পরিষদ। দলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে দুদু বলেন, আন্দোলনের কৌশল ঠিক করতে হবে। রাস্তার আন্দোলন হবে কৌশলগত কারণে। আমরা কীভাবে রাস্তায় নামবো এবং কীভাবে আন্দোলন করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো এই পথটি আমরা বের করতে পারলেই সরকারের পতন হবে। আজকে বের করতে পারলে কালকেই সরকারের পতন হবে। কালকে বের করতে পারলে পরশুদিন তাদের পতন হবে। তিনি বলেন, আপনি বলবেন একটা সরকার বানাবে আরেকটা। বাক স্বাধীনতা না থাকলে যা হয়। আপনি বলবেন একটা আপনাকে কারাগারে ঢোকানোর জন্য সরকার বানাবে অন্যটা। আমার পাশেই বসে আছেন আমার সহকর্মী তিনি এখন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন। তিনি বললেন, আইন-আদালতের এখন স্বাধীনতা নেই। এটা উনি বলছেন তা নয়, এটা এখন দেশব্যাপী নয় বিশ্বব্যাপী সবাই জানে। সদ্য প্রয়াত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে যথাযথ সম্মান দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, গতকাল (গত বৃহস্পতিবার) আমরা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ বিদায় জানিয়েছি। বিএনপির নাকি কোনো জনপ্রিয়তা নাই। গতকাল (গত বৃহস্পতিবার) ঢাকা শহর ছিল বিএনপির ঢাকা শহর ছিল বেগম জিয়ার, ঢাকা শহর ছিল সাদেক হোসেন খোকার। সরকার তাকে যথাযথ সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাকে যথাযথ সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের নেত্রী এখন জেলখানায়। বাস্তবতা হলো আমাদের নেত্রীকে চিকিৎসার জন্য কোর্টের অর্ডার নিতে হয়। কোর্ট অর্ডার দিলেও সরকার তার চিকিৎসা করছে না। এমন একটি সভ্য জাঁতি আমরা। তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য কোর্টের আশ্রয় নিতে হয়। দেশের সকল মানুষ জানে তিনি খারাপ অবস্থায় আছেন। কিন্তু সরকার এবং পিজি হাসপাতালে ডাইরেক্টর বলেন তিনি (খালেদা জিয়া) সুস্থ আছেন। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সাহিদুল ইসলাম লরেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) মো. হানিফ, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রফিকুল ইসলাম রিপন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আরো খবর...