প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর স্থগিত

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফর স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় মুজিববর্ষ উদযাপনে আন্তর্জাতিক উপ-কমিটির সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর জাপানে যাওয়ার কথা ছিল। জাপানের রাজার সঙ্গেও সাক্ষাতের ব্যবস্থা হয়েছিল। কিন্তু যেহেতু জাপানেও করোনাভাইরাস বেশ সোচ্চার হয়েছে, সেহেতু সফর স্থগিত করা হয়েছে। দুই দিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে আগামী ৩০ মার্চ জাপানে যাওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ”আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে এটা পরবর্তীতে কোনো এক সময়ে (জাপান সফরে) যাব। তাতে তাদের কোনো আপত্তি নাই।” সফর স্থগিতের ব্যাখ্যায় মোমেন বলেন, “আমরা যেখানে যাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গেলে একটা বড় ব্যবসায়িক প্রতিনিধি যায়, আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ে। “ওরা বলেছে, এই মুহূর্তে বড় প্রতিনিধিদল যেভাবে অনেকের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করে, (এমন) বড় জমায়েত বোধহয় এই প্রেক্ষিতে সম্ভব না।” পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে ১৭ মার্চ মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থগিত হলেও পরে সুবিধাজনক সময়ে সেই আয়োজন হবে। আমন্ত্রিত রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের চিঠি লিখে প্রধানমন্ত্রী মার্চের বড় আয়োজনগুলো সংক্ষিপ্ত করার বিষয় অবহিত করেছেন বলেও জানান মোমেন। তিনি বলেন, “বিশ্বের এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এবং ওইসব দেশেও যেহেতু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, এই প্রেক্ষিতে আমরা এটা উদযাপন করব ভিন্ন আঙ্গিকে। এটাকে আমরা পুনর্বিন্যাস করেছি। “সেই প্রেক্ষিতে উনাদের জানানো হয়েছে, আমরা এভাবে করব। যেগুলো করতে চেয়েছিলাম এখন হচ্ছে না। এই অবস্থায় উনারা সিদ্ধান্ত নেবেন, আসবেন কি-না।” ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে মুজিববর্ষ উদ্বোধনের মূল অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি বিদেশি অতিথিদেরও ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রোববার বিকালে বাংলাদেশে তিনজন কভিড-১৯ রোগী ধরা পড়ার কথা আইইডিসিআর জানালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি রাতে বৈঠকে বসে। কমিটির সদস্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী পরে সাংবাদিকদের বলেন, প্যারেড স্কয়ারের মূল অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে, তা পরে হবে। ১৭ মার্চ ছোট আকারে সীমিত পরিসরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্বজুড়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সে কারণেই ব্যাপক জনসমাগম এড়িয়ে আপাতত সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশ সরকার চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানোর পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাভীশ কুমার সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফর পেছানোর কথা জানান। সে বিষয়টি উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ”আমরা এটাও বলেছি, পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে আমরা এটা করব, আপনারা আসবেন। কারণ মুজিববর্ষ সারাবছর ধরে চলবে।” আপাতত বিদেশিদের আসতে ’নিরুৎসাহিত’ করা হচ্ছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ”ভুটান থেকে রাজা, নেপাল থেকে রাষ্ট্রপতি আসার কথা। নেপালের রাষ্ট্রপতি বলেছেন, আমাদের এখানে বিশেষ জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে, এ অবস্থায় তিনি যাবেন কেন।” মোমেন জানান, ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসনেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সম্মানে ২৭ মার্চ যে বিশেষ আয়োজন ছিল, তা ও স্থগিত করা হয়েছে। তবে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে সাধারণভাবে যেসব অনুষ্ঠান বাংলাদেশে হয়, সেগুলো জনসমাগম এড়িয়ে বিশেষভাবে হবে জানিয়ে তিনি বলেন,  কবর জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল, রক্তদানের মত আনুষ্ঠানিকতাগুলো স্বাভাবিকভাবেই হবে। “সেদিন আমাদের বড় কোনো গণজমায়েতের চিন্তা নেই, তবে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সঙ্গে অনুষ্ঠান সংযোগ থাকবে।” বিদেশের ৭৭টি মিশন সেদিন মোট ২৬১টি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “বিভিন্ন দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে, এবং অ্যাডভাইজরি দিয়েছে, লোক সমাগম থাকবে না। আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, যে সমস্ত দেশে এ ধরনের বাধ্যবাধকতা আছে, সেখানে বড় বড় প্রোগ্রাম ১৭ মার্চ, ২৬ মার্চ এগুলো সীমিত আকারে করবে এবং সে দেশের আইনকানুন মেনে করবে। যেসব দেশে অবস্থা ভালো সেখানে তাদের মত আয়োজন করবে।”

আরো খবর...