প্রণব মুখার্জির প্রয়াণ

বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি চলে  গেলেন না-ফেরার দেশে। সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির সেনা হাসপাতালে  শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন উপমহাদেশের এ যশস্বী রাজনীতিক। প্রণব মুখার্জি ছিলেন বাংলাদেশের নড়াইলের জামাই। দলমত-নির্বিশেষে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ ছিল লক্ষ্য করার মতো। এ শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে  রেখেছেন সুহৃদের ভূমিকা। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর সেই মহাদুর্দিনে বঙ্গবন্ধু পরিবারের পাশে দাঁড়ান এ বিদগ্ধ রাজনীতিক। ভারতের অর্থনীতির বিকাশে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন প্রণব মুখার্জি। অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা অর্থমন্ত্রী হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে পশ্চিমা গণমাধ্যমে। পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। প্রণব মুখার্জির মৃত্যুর খবর প্রথম প্রচারিত হয় পুত্র অভিজিতের টুইট বার্তায়। এতে তিনি বলেন,  সেনা হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রয়াস, জনতার প্রার্থনা ও দোয়া সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো গেল না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারতরতœ প্রণব মুখার্জির প্রয়াণে দেশ শোকাহত। ভারতের অগ্রগতিতে তাঁর ভূমিকা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় শোকবার্তায়। প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে বাংলাদেশেও শোকের ছায়া বিস্তার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে এবং ’৭৫-পরবর্তী দুর্দিনে ভারতের প্রায়াত সাবেক রাষ্ট্রপতির ভূমিকা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। স্মর্তব্য, ১০ আগস্ট নয়াদিল্লির রাজাজি মার্গের সরকারি বাসভবনে কলঘরে পড়ে গিয়ে প্রণব মুখার্জি মাথায় আঘাত পান। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সেনা হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। চিকিৎসায় সাড়া দিলেও সেই থেকেই তিনি ছিলেন কোমায়। ক্রমেই তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে। দীর্ঘ দুই সপ্তাহ লড়াই করার পর সোমবার তিনি হার স্বীকার করেন। বাংলাদেশের অকৃত্রিম সুহৃদ প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে ভারতের রাজনীতিতে যে গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হলো তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। সজ্জন এই রাজনীতিককে দলমত-নির্বিশেষে সবাই ভাবতেন আস্থার প্রতীক হিসেবে। উপমহাদেশের শান্তি ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় তাঁর সমর্থন ইতিহাস কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

আরো খবর...