পুলিশের ওপর বোমা হামলায় ২ মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার

ঢাকা অফিস ॥ সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় ‘পুলিশকে লক্ষ্য করে’ হামলা কিংবা হামলা চেষ্টার যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেসবের মূল পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেফতার দুই জঙ্গিই ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। গত রেববার রাতে গ্রেফতার ‘নব্য জেএমবির সদস্য’ মো. মেহেদী হাসান তামিম এবং মো. আবদুল্লাহ আজমিরের কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেশকিছু তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলছেন, গত মাসে ফতুল্লার যে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়েছিল, সেখানে বসে তৈরি করা বোমাগুলোই ঢাকায় বিভিন্ন হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে। দুই জঙ্গিকে গুলিস্তান ও সাইন্সল্যাব এলাকায় বোমা হামলায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করা হলেও মালিবাগের হামলা এবং পল্টন ও খামারবাড়িতে পুলিশ বক্সের কাছে বোমা পেতে রাখার পরিকল্পনা, বোমা তৈরি এবং হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া- সবকিছুতেই তারা ছিলেন বলে জানিয়েছেন মনিরুল। গতকাল সেমাবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তারা (মেহেদী ও আবদুল্লাহ) নব্য জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য এবং দুজনই খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যন্ত্র প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রিধারী। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তারা নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে যুক্ত হয় এবং ২০১৮ সালের ফেব্র“য়ারি মাসে তারা ভোলার একটি দুর্গম চরে প্রশিক্ষণ নেয়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শিয়াচর এলাকায় তক্কার মাঠ সংলগ্ন একতলা একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ল্যাবরেটরির মতো সাজানো কক্ষের সন্ধান পায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। সেখানে বিপুল পরিমাণ ইমপ্রোভাইসড এক্সক্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) পাওয়া যায়। ওই অভিযানে বাড়ির মালিক বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত একজন ডিজিএম জয়নাল আবেদীনের ছেলে ফরিদউদ্দিন রুমি ও তার স্ত্রী জান্নাতুল ফোয়ারা অনুকে গ্রেফতার করা হয়। রুমি ঢাকার আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ও প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষক আর তার ভাই জামালউদ্দিন রফিক খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থী। গত রেববার রাতে গ্রেফতার দুই জঙ্গি এই জামালউদ্দিন রফিকের নেতৃত্বেই নব্য জেএমবির একটি সামরিক শাখা প্রতিষ্ঠা করেন বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল। তারা ফতুল্লায় রফিকের বাসায় বোমা তৈরির একটি কারখানা তৈরি করে। গ্রেফতাররা পরস্পর যোগসাজশে তৈরি করা বোমা দিয়ে গুলিস্তান এবং সাইন্সল্যাবে হামলায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। এ ছাড়া মালিবাগের হামলায় এবং পল্টন ও খামারবাড়ি যে বোমা পাওয়া গেছে, সেসব তৈরিতে রফিককে সহায়তা করার কথাও তারা স্বীকার করেছে। মনিরুল বলেন, তারা স্বীকার করেছে, তাদের পরিকল্পনা এবং নেতৃত্বেই সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর হামলা করা হয়েছে। ঢাকায় এসব হামলায় পাঁচজন জড়িত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এদের মধ্যে তিনজন গ্রেফতার হয়েছে এবং এখনও দুজন পলাতক রয়েছে। ফতুল্লার জঙ্গি আস্তানা থেকে গ্রেফতার ফরিদউদ্দিন রুমি পল্টনে বোমা উদ্ধারের মামলায় আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অন্য জঙ্গিদের নাম জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম। এ বছর ঢাকায় প্রথম হামলার ঘটনাটি ঘটে ২৯ এপ্রিল রাতে গুলিস্তানে। সেখানে বোমা হামলায় আহত হন ট্রাফিক কনস্টেবল নজরুল ইসলাম, লিটন চৌধুরী ও কমিউনিটি পুলিশ সদস্য মো. আশিক। এরপর ২৬ মে মালিবাগে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) কার্যালয়ের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা পুলিশের গাড়িতে বোমার বিষ্ফোরণ ঘটলে এসআই রাশেদা খাতুন এবং এক রিকশাচালক আহত হন। ২৩ জুলাই খামারবাড়ি এবং পল্টনে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছে একই সময় দুইটি কার্টনে বোমার সন্ধান পায় পুলিশ। পরে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়। আর সবশেষ গত ৩১ অগাস্ট মধ্যরাতে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের যাত্রাপথে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তাতে একজন এএসআই এবং একজন কনস্টেবল আহত হন। প্রতিটি ঘটনার পরই মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের পক্ষ থেকে হামলার দায় স্বীকারের খবর গণমাধ্যমে এলেও পুলিশ তা বরাবরই নাকচ করে বলেছে, এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে এ দেশিয় উগ্রপন্থিরাই।

আরো খবর...