পাট আমাদের সংস্কৃতিকে ঐতিহ্যগতভাবে করেছে সমৃদ্ধ, সেই সঙ্গে সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে

কুষ্টিয়ায় জাতীয় পাট দিবসের আলোচনা সভায় ডিসি আসলাম হোসেন

কাঞ্চন কুমার ॥ “সোনালী আঁশের সোনার দেশ, মুজিব বর্ষে বাংলাদেশ” শ্লোগানে কুষ্টিয়ায় নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় পাট দিবস-২০২০। গতকাল শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তরের আয়োজনে দিনের শুরুতেই বর্ণাঢ্য এক পাট র‌্যালী বের হয়। র‌্যালীটি কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বর প্রদক্ষিণ করে। পরে জাতীয় পাট দিবসের তাৎপর্য এবং পাটের নানা বিধি ব্যবহার ও পাট সম্পর্কে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের কনফারেন্স রুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি) মুহাম্মদ ওবাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন। কুষ্টিয়ায় পাটের ঐতিহ্য, পাট চাষের ও ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন- কুষ্টিয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি বিশেষ অংশজুড়ে রয়েছে সোনালি আঁশখ্যাত পাট। বাঙালি জাতিসত্তার সঙ্গে মিশে আছে এর গৌরবের অধ্যায় যা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের  নেই। পাটের বীজ বপনের দিন থেকে শুরু হতো কৃষকের সোনালি স্বপ্ন  বোনা। যাপিত জীবনের পরিকল্পনা এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিভোর কৃষক নিরন্তর চেষ্টার মধ্যে সেসময় অভাবের তেষ্টা মেটাত। যেটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতির ধারাবাহিক উন্নত সংস্কৃতির ব্যাপ্তিকেই প্রকাশ করিয়ে  দেয়। পাটকে ঘিরে এখনো জড়িয়ে আছে শিল্পসাহিত্য, কবিতা, লোকজ সংস্কৃতি, সুখ-দুঃখ, সাহিত্য, নান্দনিকতা, জীবন-জীবিকার বর্ণনা। পাট আমাদের সংস্কৃতিকে ঐতিহ্যগতভাবে করেছে সমৃদ্ধ। সেই সঙ্গে সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে। তিনি বলেন, পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনতে উচিৎ আমাদের সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচেষ্টা করা। পলিথিন মোড়ক বর্জন করে পাট পন্য ব্যবহার করা। বর্তমান সরকার পাটের সুদিন ফেরাতে কাজ করে যাচ্ছেন। পাট এর ব্যবহার নিশ্চিত করতে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামুলক আইন করেছেন সরকার। সরকারি-বেসরকারি সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, নতুন বাজার সৃষ্টি, চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, উন্নতমানের বীজে প্রাপ্তির নিশ্চয়তা, এর যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাটের স্বর্ণালি দিন আবার ফিরে আসবে। তিনি মিল মালিকদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেন- আপনারা পলিথিনের নিষিদ্ধ মোড়ক ব্যবহার না করে পাটের বস্তা ব্যবহার করুন। পাটের বস্তা পরিবেশ বান্ধব। আর যদি কেউ আইন অমান্য করে পলিথিনের মোড়ক ব্যবহার করে তাহলে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় পাট দিবসের তাৎপর্য, পাটের নানা বিধি ব্যবহার, পাট চাষ, বর্তমানে বাংলাদেশে পাটের সম্ভাবনা ও পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক আইন নিয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া পাট অধিদপ্তরের মুখ্য পাট পরিদর্শক সোহরাব উদ্দিন বিশ্বাস। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মুনিরা সুলতানার পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল হালিম, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আবু রাসেল, আহম্মেদ সাদাত, সবুজ কুমার বসাক, খাদেজা খাতুন, সবুজ হোসেন, কুষ্টিয়া অটো রাইচ মিল সমিতির সাধারন সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, লক্ষণ জুট মিলের প্রতিনিধি সুমন মজুমদার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে অনান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা বেলাল হোসেন, রাশেদ আহম্মেদ, আতাউর কবীর, সোহেল রানা, হামিদুর রহমান, পলাশ চন্দ্রসহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী, সুধিজন এবং জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় শতাধিক পাট চাষীরা।

আরো খবর...