পাটশাকের দুটি নতুন জাত উদ্ভাবন

কৃষি প্রতিবেদক ॥ পাটশাক বাংলাদেশের মানুষের একটি জনপ্রিয় সবজি জাতীয় খাদ্য। ভাতের সঙ্গে ডাল ও পাটশাক বেশ প্রচলিত একটি খাদ্যাভ্যাস। এবার সেই শাকের সঙ্গে যুক্ত হলো পাটশাকের আরও দুটি নতুন জাত। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) কর্তৃক সদ্য অবমুক্তকৃত পাটশাকের নতুন দুটি জাতের নাম হলো বিজেআরআই দেশি পাটশাক-২ (ম্যাড়া লাল) ও বিজেআরআই দেশি পাটশাক-৩ (ম্যাড়া সবুজ)। দীর্ঘ ৫ বছরের গবেষণায় জাত দুটি উদ্ভাবন করেন বিজেআরআই’য়ের বিজ্ঞানী মো. জ্যাবলুল তারেক। বুনো পাট থেকে শাকের এ দুটি জাত উদ্ভাবন করা হয়। জানা যায়, স্বাদে তিতাহীন বলে এটি অধিক সুস্বাদু ও সুমিষ্ট। প্রচুর পুষ্টিগুণসম্পন্ন হওয়ায় মানুষের শাকের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহয়তা করবে। শাকটি মালভেসিয়া পরিবাবের অন্তর্ভুক্ত, যার  বৈজ্ঞানিক নাম করকোরাস ক্যাপস্যুলারিস। পুষ্টিমান বিবেচনায় ম্যাড়া পাটশাকে অন্যান্য পাটশাকের চেয়ে গড়ে প্রায় দেড়গুণ পরিমাণ বেশি পুষ্টিগুণ রয়েছে। এ সম্পর্কে গবেষক জ্যাবলুল তারেক বলেন, দীর্ঘদিন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের বাস্তবায়নাধীন পাটবিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণা প্রকল্পে চাকরির সুবাদে প্রায়ই বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে গবেষণা মাঠ পরিদর্শনে যাওয়ার সময় এক ধরনের বুনো পাট দেখতে পেতাম। রংপুরের তৎকালীন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আইয়ুব খানের পরামর্শ নিয়েই এর ওপর গবেষণা শুরু করি। অবশেষে ৩ বছর ধরে গবেষণার পর দেখা যায় এটি তিতাহীন সুস্বাদু সুমিষ্টযুক্ত শাকের ন্যায় সকল পুষ্টিগুণ ও বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় অতি সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক ম্যাড়া লাল ও ম্যাড়া সবুজ লাইন দুটি শাকের জাত হিসেবে অনুমোদিত হয়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী দিনের আলো নিরপেক্ষ স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন উদ্ভিদ বলে এই দুটি জাত সব ধরনের জমিতে প্রায় সারা বছর চাষ করা যাবে। এমনকি এটি অল্পমাত্রার লবণাক্ত এলাকাতেও চাষ করা সম্ভব। পোকামাকড় ও রোগবালাই কম হয় বলে ভালোভাবে পরিচর্যা করলে ঝোপাল এই শাকগাছ থেকে কয়েকবার শাকপাতা সংগ্রহ করা সম্ভব। বীজ বপনের ২৫-৩৫ দিনের ভেতরেই শাকপাতা সংগ্রহ করা যায় এবং ফলন হেক্টর প্রতি ৩-৪ টন পাওয়া সম্ভব। বুনোজাত থেকে বাছাইকৃত বলে বর্তমানে এ শাকে এন্টি-অক্সিডেন্ট ও ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদান এবং পরিমাণ নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয়। গবেষণা কার্যক্রমে সহযোগী গবেষক হিসেবে ছিলেন বিজেআরআইয়ের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, ড. মো. আইয়ুব খান, ড. মো. সামিউল হক এবং প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আবুল ফজল মোল্লা এবং ড. মো. শহিদুল ইসলাম। গবেষণালব্ধ উপাত্ত বিজেআরআইয়ের প্রজনন বিভাগ কর্তৃক উপস্থাপনের মাধ্যমে জাত দুটি পাটেরশাক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়া এর পুষ্টিমান ও অন্যান্য তথ্য সংবলিত একটি গবেষণা প্রবন্ধ ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব  ভেজিটেবল সায়েন্স’ নামক আমেরিকান ভিত্তিক আন্তর্জাতিক জার্নালে ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।

আরো খবর...