পবিত্র কোরআন সাত ভাষায় অবতীর্ণ হয়

॥ নাজির আহমদ জীবন ॥

হযরত আব্দুল্লাহ ইব্নে মাস্উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলেপাক (সাঃ) এরশাদ  করেন, কোরআন সাতটি ভাষায় অবতীর্ণ হয়। প্রত্যেক আয়াতের দু’টি দিক রয়েছে, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য (রহস্যাবৃত) (মিশকাতুল মাসাবীহ-১৯২ পৃষ্ঠা)

রাসূল (সাঃ) সাত প্রণালীতে কোরআন পাঠের অনুমোদন করেছেন। সাত এখানে নির্দিষ্ট সাত সংখ্যা নয়, একাধিক সংখ্যা জ্ঞাপক, অর্থাৎ  রাসূল (সাঃ) একাধিক প্রণালীতে কোরআন পাঠ সমর্থন করেছেন। সমগ্র আরবে একই আরবী ভাষা প্রচলিত। কিন্তু আরবে বহু সম্প্রদায়ের বাস।  এই সম্প্রদায়গুলির মধ্যে কোন কোন শব্দর উচ্চারণে কিছুটা পার্থক্য  আছে। মাঝে মাঝে  ইডিয়ম বিশেষেত বিভিন্নতা দেখা যায়। যেমন; বাংলাদেশে স্থান ভেদে ‘করিব এই শব্দ-করিব, করব, করমু;করবাম এই চার বিভিন্ন প্রণালীতে  উচ্চারিত হয়। সেইরূপ কোরায়েশ  সম্প্রদায় উচ্চারণ করিত ‘হাত্তা’ (যে পর্যন্ত না)। হুজাইন সম্প্রদায় উচ্চারণ করিত ‘আত্তা’ (যে পর্য্যন্ত না)। কোরায়েশরা উচ্চারণ করিত তো’লামুন, আছাদ সম্প্রদায় উচ্চারণ করিত ‘তিলামুল’-ইত্যাদি।

মুছলিম বর্ণনা করেন, সাহাবী উবাই বিন কা’ব নিজে যেরুপে কোরআন  পাঠ শিখেছেন, দুইজন লোককে তা হতে ভিন্নরূপে কোরআন পাঠ করতে শুনলেন। তিনি রাসূল (সাঃ) এর নিকট উপস্থিত হলে, রাসূল (সাঃ) তাদের পাঠ সমর্থন করলেন্ এতে উবাই বিষ্মিত হলেন, তখন রাসূল (সাঃ) তাকে বুঝিয়ে বললেন, “হে উবাই, কোরআন এক ভাষায় (কোরায়েশী ভাষায়) পাঠের জন্যই আমার নিকট অবতীর্ণ হয়। ইহা অন্যান্য সাম্প্রদায়িক ভাষাতেও পাঠের জন্য আমি অনুমতি প্রার্থনা করি, যাতে দেশের লোকেরা উহা সহজে আবৃত্তি করতে পারে। তখন উহা দুই সাম্প্রদায়িক ভাষায় (কোরায়েশদের পাশ্ববর্তী বিশুদ্ধ ভাষায়) পাঠের অনুমতি পাই; এবং তৎপর আমি অধিকতর সংখ্যক পাঠের অনুমতি প্রার্থনা করি, যাতে ইহা আমাদের দেশের লোকদের পক্ষে সহজ হয়, এবং উহা সাতটি সাম্প্রদায়িক ভাষায় পাঠের জন্য আমি অনুমতি পাই।

বোখারী, ইবনে মাস্উদ  হতে বর্ণনা করেন, আমি একজনকে কোরআন আবৃত্তি করতে শুনি এবং আমি রাসূলে পাক (সাঃ) কে অন্যরুপ পড়তে শুনে ছিলাম। আমি তখন রাসূল (সাঃ) কে বিষয়টি বলি; শুনে তাঁর পবিত্র মুখ অসন্তোষের ভাব লক্ষিত হল, তিনি বললেন; “তোমাদের  উভয়ের আবৃত্তিই বিশুদ্ধ, সুতরাং ভেদ সৃষ্টি করিও না, কারণ পূর্বের এমন জাতি সমূহ ছিল যারা ভেদ বুদ্ধির জন্য ধ্বংস হয়েছে।”

আরো খবর...