পথশিশুদের জন্য “ছায়াতল বাংলাদেশ”

কুষ্টিয়ার ছেলে সোহেল রানা’র হাত ধরে শিক্ষার আলো পাচ্ছে শতাধিক পথশিশু। “ছায়াতল বাংলাদেশ” একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন। সমাজের সুবিধা বঞ্চিত, পথশিশুদের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা ও স্বাধীন স্বার্বভৌমত্বের প্রতি ভালবাসা’র উপর ভিত্তি করে নামকরণ করা হয়েছে “ছায়াতল বাংলাদেশ”। ২০১৬ সালে মার্চ মাসের ১৬ তারিখ বিকেলে বসেছিলেন ঢাকা’র শ্যামলী শিশু পার্কের এক কোণে। রাকিব নামের এক টোকাই ছেলে  এসে মুড়ি খাওয়ার জন্য তার কাছে কিছু টাকা চেয়ে বসে। তিনি বললেন, তুমি তোমার নাম লিখতে পারলে মুড়ি খাওয়াবো। অক্ষর জ্ঞানহীন রাকিব অনেকক্ষণ চেষ্টা করে তার নাম লেখার আকৃতি তৈরী করতে সক্ষম হয়।সোহেল রানা তাকে মুড়ি খাওয়ায়। ছেলেটা বললেন ভাইয়া কাল কি আবার নাম লেখা শিখতে আসবো? সোহেল রানা পরেরদিন অপেক্ষা করতে থাকে রাকিবের জন্য, কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরে দেখতে পেলো রাকিবতো আসছেই সাথে আরো দুজন বাচ্চাও আছে।তারাও নাম লেখা শিখতে চায়। সেখান  থেকেই শুরু ছায়াতল বাংলাদেশ,  একে একে বাড়তে থাকে অক্ষর জ্ঞান শেখা শিশুদের সংখ্যা। শ্যামলি শিশু পার্কের এক কোনে চলতে থাকে শিক্ষা কার্যক্রম। পাশাপাশি কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলেন এই ছায়াতলের শাখা। সঙ্গী হিসেবে যুক্ত হয় মাসুদ রনি, সাইফুল ইসলাম খান, আসিকুজ্জামান সজল সহ অনেকেই। বর্তমানে সংগঠনটি সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের তিনটা স্কুল পরিচালনা করছে। বছরের শুরুতেই শিশুদের স্কুল ড্রেস,স্কুল কেডস, স্কুল ব্যাগ এবং শিক্ষা সামগ্রীসহ শিশুদের  প্রয়োজনীয় যাবতীয় কিছু  বিতরণ করে থাকে। শীত মৌসুমে শীতের পোশাক, কম্বল বিতরণ এবং উৎসব অনুষ্ঠানে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়। এসকল শিশুদের পড়াশুনার পাশাপাশি ধর্ম শিক্ষা ও সাংস্কৃতি চর্চা করানো হয়। মাসে একবার ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে শিশুদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারের  বেঁচে যাওয়া ভালো খাবার সংগ্রহ করে বাচ্চাদের পুষ্টির ব্যবস্থা করা হয়। বাচ্চাদের মেধার বিকাশ প্রসারের জন্য বছরের বিভিন্ন সময় শিক্ষা সফরের আয়োজন করা এবং জাতীয় দিবসগুলো উদযাপন করতে ভিন্ন ভিন্ন আয়োজন সংগঠনটি করে থাকে। যোগাযোগ করা হলে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মাসুদ রনি জানান, সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সহযোগিতা ও পরামর্শ পাইলে এসকল সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা নিশ্চয়ই মুলধারায় ফিরে আসবে, সমাজে অপকর্ম হ্রাস পাবে এবং শিশুরা একসময় দেশের জনসম্পদে রূপান্তর হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আরো খবর...