নৈতিকঙ্খলনের ঘটনায় জড়িত খোকসা জানিপুর সরকারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২ শিক্ষক-শিক্ষিকা অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

ভাইরাল ভিডিও ও শিক্ষকদের বক্তব্যের মিল খুঁজছে তদন্ত কমিটি

খোকসা প্রতিনিধি ॥ নৈতিকঙ্খলনের ঘটনায় জড়িত কুষ্টিয়ার খোকসা জানিপুর সরকারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মী শিক্ষিকার দায়ের করা যৌন হয়রানির অভিযোগটির তদন্ত প্রতিবেদন আজ সোমবার দাখিল হতে পারে।

কুষ্টিয়ার খোকসা জানিপুর সরকারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার দাসের বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার উত্থাপিত যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে টালবাহান অভিযোগ উঠেছে। তবে তদন্ত শুরু হতেই শিক্ষক বিদ্যুত কুমার দাস ও অভিযোগকারী সমাজ বিজ্ঞান শাখার শিক্ষিকা মনিরা সুলতানার অনৈতিক সম্পর্কের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসে। অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত শিক্ষক-শিক্ষিকার বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি নির্দ্ধারিত ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করা এবং অভিযুক্তদের চাকুরিতে বহাল রাখার প্রতিবাদে গতকাল রবিবার সকালে বিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের সামনে মানববন্ধন করে। অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের সাথে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কথা বলেন। এই কর্মকর্তার আশ্বাসে তারা এক দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত করে।  বিদ্যালয়ের সাথে সম্পৃক্ত একাধিক সূত্র জানায়, চলতি মাসের ৩ তারিখে বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার শিক্ষক বিদ্যুত কুমার দাসের বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের এই সহকারী শিক্ষিকা যৌন হয়রানীর অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। দশ কার্যদিবসের মধ্যে মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু তদন্ত শুরু করা ও প্রতিবেদন দাখিল নিয়ে শুরু হয় নানা টালবাহানা। এক পর্যায়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দায়েরের দশ দিনের মাথায় তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজমূল হক এর দপ্তরে কয়েক দফায় দুই পক্ষের মধ্যে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে এই কমিটির বিরুদ্ধে। আজ সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হতে পারে বলে সূত্রগুলো জানায়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজমূল হক বলেন, তারা ইচ্ছা করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব  করেনি। একদিকে পাবলিক পরীক্ষা চলছে অন্যদিকে অভিযোগকারী ও বিবাদির লিখিত বক্তব্য, ছবি, অডিও ও ভিডিও পর্যালচনা করতে একটু সময় লাগছে। তবে এক/দুই দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হতে পারে।  তদন্ত কমিটির আর এক সদস্য খোকসা জানিপুর সরকারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহম্মদ আলী বলেন- অভিযুক্ত শিক্ষকদের মৌখিকভাবে স্কুলের কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের চলতি এসএসসি পরীক্ষার কাজ থেকেও তাদের দূরে রাখা হয়েছে। সবই করা হয়েছে মৌখিকভাবে। ছাত্রদের আন্দোলনের সময় বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী জেরীন কান্তা সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে না আসার জন্য নোটিশ দিতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষকদের  নৈতিক ঙ্খলনের অভিযোগের অডিও, ভিডিওসহ প্রচুর তথ্য পাওয়া গেছে। সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন জমার পর মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসনকে অবহিত করা হবে। তারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনিও আশা করছেন।

আরো খবর...