নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংসের প্রতীক নির্বাচন কমিশন – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নির্বাচন কমিশন তো একটি ইন্ডিপেন্ডেন্ট বডি, স্বাধীন সত্তা। এখানে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল একেকটি শেয়ার হোল্ডার। আপনি শেখ হাসিনার কথায় দিনের ভোট রাতে করেছেন। ভোটকেন্দ্রে মানুষকে বিতাড়িত করে গরু-ছাগলকে পাঠিয়েছেন। এটার প্রতীক হলো নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনকে ধ্বংস করার প্রতীক হলো নির্বাচন কমিশন। গতকাল সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় জাতীয়তাবাদী সেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খানের রুহের মাগফিরাত কামনায় ছাত্রদল আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। করোনা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সারা পৃথিবীতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। গোটা বাংলাদেশে আমরা একটি মরণযজ্ঞের মধ্যে আছি। আমি কয়েকদিন আগে কয়েকটি জেলা সফর করলাম। সেখানে অসুস্থতায় মারা যাওয়া কয়েকটি পরিবারের সাথে দেখা করতে গিয়েছি। তারা বলেছে এসব রোগীর হার্টের রোগ ও অন্যান্য রোগ ছিল বটে, তবে তারা করোনায় মারা গেছে। যে কয়টি বাসায় গিয়েছি করোনায় আক্রান্ত ছাড়া কেউ মারা যায়নি। গোটা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সরকার ভেঙে দিয়েছে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, মফস্বলের হাসপাতালগুলোতে কোনো চিকিৎসা নেই। সেখানে হাসপাতালগুলোতে যাওয়া মানে মৃত্যুর সার্টিফিকেট নিশ্চিত পকেটে নিয়ে যাওয়া। এর বাইরে অন্য কিছু নেই। তিনি বলেন, এই সরকার শুধুমাত্র ক্রসফায়ার গুম-খুনের মধ্য দিয়ে, শুধুমাত্র একটা অমানবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু করেনি, এই সরকার সরা দেশের মানুষকে মৃত্যু কূপে ফেলে দেওয়ার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা করেছে। আজকে মেগা প্রজেক্ট করেন, আজকে ফ্লাইওভার করেন টাকা চলে যায় কানাডায়, টাকা চলে যায় মালয়েশিয়ায়। শুনি বেগম পল্লী, শুনি সেকেন্ড হোম আর বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে ধুকে ধুকে মরে সাধারণ মানুষরা। রিজভী বলেন, সকল অমানবিকতার জন্মদাতা হচ্ছে এই সরকার। আর এই সরকার দিব্যি জনগণকে বাদ দিয়ে, গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে, জবাবদিহিতাকে কবরের মধ্যে ঠেলে দিয়ে জোর করে বন্দুক হাতে নিয়ে ক্ষমতায় বসে আছে। ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের সঞ্চালনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক শহিদুল ইসলাম বাবুল, সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আকরামুল হাসান প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবণ, মাজেদুল ইসলাম রুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান, আশরাফুল আলম ফকির লিংকন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন, যুগ্ম-সম্পাদক রিয়াদ মো: ইকবাল, ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, যুগ্ম-আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন নাছির, ছাত্রদল মহানগর পূর্ব সভাপতি খন্দকার এনামুল হক, মহানগর উত্তর সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন রুবেল প্রমুখ।

আরো খবর...