নির্ধারিত সময়েই উন্নয়নমুলক কাজ শেষ করতে হবে

কুষ্টিয়া জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় ডিসি আসলাম হোসেন

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, আমাদের প্রত্যেকের পরিশ্রম ও আন্তরিকতার কারনে সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে জেলার প্রতিটি প্রকল্পের উন্নয়নমুলক কাজ। এসব কাজ বাস্তবায়নে আপনার সমস্যা যদি আপনিই সৃষ্টি করেন তা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। প্রত্যেকটি উন্নয়নমুৃল কাজে সঠিক ভাবে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। মনে রাখবেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সকল প্রকল্পের উন্নয়নমুলক কাজ শেষ করতে হবে। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগের অগ্রাধিকার ভিত্তিক যে সব কাজ এখনো চলমান আছে তা অতি দ্রুত শেষ করতে হবে। কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হলে সফলতা আসবেই। কাজের প্রতি দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিবেন না। সঠিক তদারকী করে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সরে দাঁড়াতে হবে। গতকাল রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি সড়ক ও জনপথ কুষ্টিয়া বিভাগের নবাগত নির্বাহী প্রকৌশলীর উদ্দেশ্যে বলেন, কুমারখালী-রাজবাড়ী সড়ক প্রসস্থকরণ কাজের অগ্রগতিতে জনগণ উপকৃত হলেও কাজ শেষ হতে না হতেই রাস্তার ধারে অনেক ধস দেখা দেয়ায় জনঅসন্তুষ্টি বাড়ছে।  জনভোগান্তি বাড়ার আগেই দ্রুত এসব ধস ঠেকাতে কাজ করা সহ প্রকল্পের কাজ সম্পুর্নভাবে শেষ করতে হবে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। কোন কাজেই গাফিলতি মেনে নেয়া হবে না। জেলাব্যাপী ব্যাপকহারে চলছে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। এক সময় যোগাযোগ ব্যবস্থার ভংগুর পরিস্থিতি বার বার জনগণের মুখোমুখি করলেও আজকে সেই অবস্থা আর নেই। দ্রুত রাস্তা মেরামত, নির্মাণ, সড়ক প্রসস্থ করনের কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই যোগাযোগ ক্ষেত্রে জনগণের ভোগান্তি কমে আসবে। তিনি আরো বলেন, তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকটি উন্নয়নমূলক কাজে সঠিকভাবে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। উন্নয়নমুলক প্রতিটি কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হলে সফলতা আসবেই। সঠিক তদারকী করে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সরে দাড়াতে হবে। কাজের নামে অকাজ করে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিবেন না। তিনি বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকেল এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব। যে এলাকার যত বেশি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে সেই এলাকা তত বেশি উন্নত। আমরা যারা উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিযুক্ত সংশ্লিষ্ট তারা যদি  দেশের জন্য এ জেলার জন্য স্ব-স্ব ক্ষেত্র থেকে ছোট্ট ছোট্ট পরবির্তন আনতে পারি তাহলেই আমাদের উন্নয়নের অঙ্গীকার পূরন হবে। তবেই তো এগিয়ে যাবে দেশ। আর এক্ষেত্রে সবার আগে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি গণপুর্ত কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলীর উদ্দেশ্যে বলেন, গড়াই বধ্যভুমি চিহিৃতকরণ, ভূমি বরাদ্দ, ভুমি জরিপ সহ অধিক গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা নির্মাণে অংশিদারিত্বমুলক অংশগ্রহন থাকা কিংবা জবাবদিহিতা থাকার প্রয়োজন রয়েছে। জেলার গৌরবোজ্জল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরনীয় বরনীয় করে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যক্তিগত কারনে অথবা অফিসের জটিলতা দেখিয়ে মহৎ এ কাজ বিলম্ব করা যাবেনা। জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। নিজেকে একজন দেশ প্রেমিক হিসেবে মানসিকভাবে তৈরী হতে হবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আগামীতেও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এগিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে কুষ্টিয়া পিছিয়ে থাকতে পারে না। যে কাজ করবেন সেটি যেন দেশের উন্নয়নে ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হয়। তিনি বলেন, কুষ্টিয়া জেলার উন্নয়নে আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। এজন্য সরকারী স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানগুলো যেন কোনভাবেই অনিয়ম না করতে পারে এবং জনগনকে সঠিকভাবে যথাসময়ে সেবা প্রদান করতে পারে সে জন্য সরকারী সব কর্মকর্তাদের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। বিগত মাসের বিস্তারিত তুলে ধরে তাকে সহযোগিতা করেন কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান।  সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ রওশন আরা বেগম, স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান খান, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ নুরুন্নাহার বেগম, দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ মামুন, কুষ্টিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র মতিয়ার রহমান মজনু, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম খান, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ^াস, খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী জেরিন কান্তা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম শাহেদুর রহিম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এটিএম মারুফ আল ফারুকী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু, জেল সুপার জাকের হোসেন, জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান, কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার রফিকুল আলম টুকু, বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোকাররম হোসেন মোয়াজ্জেম, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জায়েদুর রহমান, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী দেবাশীষ চন্দ্র, পাসপোর্টের সহকারী পরিচালক ,বিএফএ’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, পল্লীবিদ্যুতের জিএম হারুন-অর-রশিদ, জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক এটিএম জালাল উদ্দিন, জেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার, ড্রাগ সুপার হারুন-অর-রশিদ, কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক বিভুতি ভুষণ সরকার, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক  রোখসানা পারভীন, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, বাজার মনিটরিং অফিসার রবিউল ইসলাম, জেলা শিশু কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান প্রমুখ।

আরো খবর...