নিরলস কর্তব্য পালন

দুর্যোগে কর্তব্য পালনে একনিষ্ঠ অবিচল ও অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকাটাই মনুষ্যত্ব। কিছু পেশা বরাবরই ঝুঁকিপূর্ণ। সেসব পেশায় বিপদ কখনই বলে-কয়ে আসে না। আবার কোন পেশার ধর্মই হচ্ছে বিপদের সঙ্গে বসবাস। বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মহামারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্রতই হচ্ছে  রোগীকে সেবাদান, সেই রোগী যতই সংক্রমণ ব্যাধির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হোক না কেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিজেকে সুরক্ষার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কৌশলের কথাও বলা হয়েছে। পিপিই বা পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্টে নিজেকে পূর্ণ সুরক্ষাদানের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু পুলিশের বেলায় সেটি দেখা যাচ্ছে না। সেটি শতভাগ অনুসরণও হযত অসম্ভব। কারণ তারা তো কেবল হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন না। সমাজের সর্বত্র সব পরিবেশে তাদের চলাচল করতে হয়। ফলে নিজেকে শতভাগ সুরক্ষিত রেখে জনতার মাঝে গিয়ে অর্পিত কর্তব্য পালন অনেকটাই দুরূহ হয়ে পড়ে। ফলে তাদের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।  দেশে কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের পর প্রথমে একাধিক চিকিৎসক পরে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর সংবাদ আছে। বিষয়টি দুঃখজনক। তবে মহামারীর সময়ে মানুষকে বাঁচাতে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মী এবং পুলিশ-র‌্যাব সদস্যরা নিরলস অকুতোভয় কর্তব্য পালনের যে মহৎ দৃষ্টান্ত ইতোমধ্যে স্থাপন করেছেন, তা সুমহান ও সাধুবাদযোগ্য। আত্মনিবেদন ও আত্মদানের বিষয়টি জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণে রাখবে। এ চিত্র থেকে এটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন, আবার চিকিৎসা নিয়ে অনেকেই সুস্থ হয়ে উঠছেন। একইসঙ্গে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা যেমন আইসোলেশন ও  কোয়ারেন্টাইনও করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এটি এড়ানোর  কোন সুযোগ নেই। দেশের কোটি কোটি মানুষকে সুরক্ষাদানের জন্য পুলিশ-র‌্যাব তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তাদের নিজেদের সুরক্ষার বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা ও অনুসরণ করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। অনেক  ক্ষেত্রেই অনেক পুলিশ সদস্যের পক্ষে কথিত শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের কাজের ধরন ও প্রকৃতিই এমন। তবু আমরা বলব দায়িত্ব পালনরত পুলিশ-র‌্যাব সদস্যের নিজেকে সুরক্ষার বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার অবকাশ রয়েছে। সরকার নিশ্চয়ই তাদের পরিবারের জন্য কল্যাণমূলক ভূমিকা রাখবে। সেবা সংস্থার বৈশিষ্ট্য ও অঙ্গীকার অনুযায়ী তাদের কর্তব্য পালনের জন্য সমাজের কৃতজ্ঞতা জানানো এবং তাদের কাজে সহযোগিতা করা মানবিক দায়িত্ব। তাদের কাজ আরেকটু সহজ হতে পারে যদি নাগরিকরা যথাযথ আইনসিদ্ধ ভূমিকা রাখেন। সবারই মনে রাখা চাই যে, দেশ ও বিশ্ব এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে। কোন সঙ্কটের সঙ্গেই এর তুলনা চলে না। তাই সবারই দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশিত। প্রসঙ্গত, নোয়াব প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে করোনা দুর্যোগের মধ্যে আশা জাগানিয়া সংবাদ পরিবেশন করে মানুষকে জীবন সংগ্রামে টিকিয়ে রাখার মনোবল জোগাতে সংবাদপত্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। দায়িত্বশীল সংবাদপত্রসমূহে এই সংস্কৃতি বজায় রয়েছে, সে কথা বলাই বাহুল্য। করোনাবিরোধী লড়াইয়ে সাংবাদিকরাও ঝুঁকি নিয়ে কাজ অব্যাহত রেখেছেন। তথ্যমন্ত্রী নিজেও সংবাদকর্মীদের মধ্যে আশা জাগিয়েছেন। ইতোমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে একাধিক সংবাদকর্মীর মৃত্যুসহ আইসোলেশনের খবর আছে। মহাদুর্যোগের ভেতর সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান সংবাদপত্রের দুর্যোগ অতিক্রমে গণমাধ্যম-বান্ধব সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেবে, এমন প্রত্যাশা গণমাধ্যমের কর্মীদের।

আরো খবর...