নিজেরা ‘অবৈধ’ বলে অন্যদের ‘অবৈধ’ বলে – মোশাররফ

ঢাকা অফিস ॥ জিয়াউর রহমানকে ‘অবৈধ রাষ্ট্রপতি’ বলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের জবাবে এই বিএনপি নেতা বলেছেন, বর্তমানে ক্ষমতাসীনরা নিজেদের ‘ভোট ডাকাতি’ ঢাকতে অন্যের উপর দোষারোপ করছে। আদালতের রায় তুলে ধরে শেখ হাসিনা রোববার সংসদে বলেছিলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমান ও এইচএম এরশাদকে বৈধ রাষ্ট্রপতি বলা যায় না। সোমবার নয়া পল্টনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠানের আগে সমাবেশে তার জবাব দেন খন্দকার মোশাররফ। তিনি বলেন, “তাদের কথায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান না কি অবৈধ। ১৯৭৮ সালের জুন মাসে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে এদেশের জনগণ ভোট দিয়ে জিয়াউর রহমানকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছিল। এই আওয়ামী লীগের মতো রাতে ভোট ডাকাতি করে নয়। “জিয়াউর রহমান বৈধ প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আর যারা এই কথা (জিয়াউর রহমান বৈধ প্রেসিডেন্ট নন) বলে, তারা আগের রাতে ভোট ডাকাতি করে সরকারে রয়েছে।” শেখ হাসিনার ওই বক্তব্য ‘মনের দুর্বলতা’ থেকে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। “তিনি (শেখ হাসিনা) অবৈধ বলে যা বলেন, সেটা তার মনে দুর্বলতা রয়েছে বলে বলেন। এই কারণে যে, এই সরকার অনির্বাচিত। যেহেতু তারা অবৈধ, সেজন্য এখন অন্যদের উপর দোষ চাপিয়ে তা ধামাচাপা দিতে চায়।” আওয়ামী লীগের শাসনামলের সমালোচনা করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, “দেশ-জাতি আজ এই অবৈধ সরকারের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত। অর্থনীতি আজকে ধ্বংসপ্রাপ্ত, ব্যাংকগুলো লুট হয়ে গেছে। দুর্নীতি কোথায় গেছে, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।” এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সমাবেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত হয়ে বাকশাল হয়েছিল, সেই বাকশাল থেকে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল যখন, তখন একটি আইন হয়েছিল পলিটিক্যাল পার্টি রেগুলেশন। সেখানে আওয়ামী লীগের একজন নেতা দরখাস্ত করে আবার বাকশাল থেকে আওয়ামী লীগে ফিরে এসেছিলেন। “এটা তো জিয়াউর রহমানের সময়ে। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি, তার আইন। তার আইনে আওয়ামী লীগের পুনরুজ্জীবন ঘটেছিল। আওয়ামী লীগকে নতুন জন্ম দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি যদি অবৈধ হন, তাহলে আজকে আওয়ামী লীগও অবৈধ, প্রধানমন্ত্রীও অবৈধ।” মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে সমাবেশের পর নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়। কাকরাইল মোড়ে ঘুরে কার্যালয়ের সামনে ফিরে তা শেষ হয়।

বিকালে শোভাযাত্রা করার আগে সকালে মহিলা দলের নেতারা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে শেরে বাংলানগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দেন।

আরো খবর...