নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়েছে

নারীর অবমাননা বা নির্যাতন পরিবার ও সমাজে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশে ধর্ষণ, গণধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর খুনের ঘটনা  বেড়েই চলেছে কোনো রকম প্রতিকারহীনভাবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এ ধরনের অপরাধ বাড়ার মূল কারণ। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের আগের তুলনায় নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতন বেড়েছে। গত এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতন  বেড়েছে শতকরা ৩১ শতাংশ। বুধবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৫৩টি  জেলায় মে মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ১৩ হাজার ৪৯৪ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে নারী ১১ হাজার ৩২৩ জন এবং শিশু দুই হাজার ১৭১ জন। মে মাসে নতুন করে নির্যাতনের শিকার হয়েছে হয়েছে ৪ হাজার ১৬০ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে নারী ২ হাজার ৮৪১ জন এবং শিশু ১ হাজার ৩১৯ জন। এপ্রিল মাসে শুধু নারী নির্যাতন হয়েছিল ২ হাজার ৪৫৫ জন। এদিকে প্রতি ১০ জনে ছয় জন শিশু নতুনভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আর প্রতি চার জন নারীর মধ্যে একজনেরও বেশি নতুনভাবে সহিংসতার শিকার হয়েছেন। আমরা মনে করি, পারিবারিক সহিংসতা কমাতে করোনার মধ্যে ভার্চুয়াল নারী ও শিশু আদালত কার্যকর করতে হবে। ওয়ানস্টপ সার্ভিস কার্যকর রাখতে হবে। মসজিদ-মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নির্যাতনের বিষয়গুলো নিয়ে সচেতনতা তৈরি করার ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে সবার আগে জরুরি পুরুষের মানসিকতার পরিবর্তন। অবাক ব্যাপার যে, যৌন নির্যাতন করছে কলেজ শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ডাক্তার, কর্মচারী, পুলিশ, আত্মীয়, চাচা-মামা-খালু, দুলাভাই, আমলা, ধনীর দুলাল। কেউ বাদ যাচ্ছে না। ধর্ষিত হচ্ছে ছাত্রী, শিশু, যুবতী, আয়া, বুয়া, গৃহবধূ। গত কয়েক বছরে রাস্তা-ঘাটে, রেস্তোরাঁয়, চলন্ত বাসে, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে, গৃহে ঘটেছে এই  পৈশাচিক ঘটনা। কোথাও আজ নারীরা নিরাপদ নয়। আমাদের নারী, শিশুরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, এমনকি ধর্ষণের পর খুন হচ্ছে। নারীর প্রতি সহিংস আচরণ, অবমাননা এবং এর বিয়োগান্তক পরিণতি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। পৃথিবীব্যাপীই ঘটছে, তবে ইদানীং বাংলাদেশে যেন এর জোয়ার এসেছে। অপরাধীরা তো এ মানবসভ্যতারই অন্তর্গত, আমাদের চারপাশেরই বাসিন্দা। সবাই কোনো না কোনো পরিবারেই বেড়ে উঠেছে। সে পরিবার থেকে তারা কী শিক্ষা পেয়েছিল- এটাই আমাদের প্রশ্ন। আমাদের দেশেও নারী নির্যাতন রোধে আইন আছে; কিন্তু তার যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন না থাকায় নারী নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না। শুধু আইন তৈরি ও পাস নয়- সংশি¬ষ্ট মহলকে সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগও নিশ্চিত করা উচিত। দেশের উন্নয়ন হচ্ছে- এ কথা প্রায় সর্বত্র উচ্চারিত হচ্ছিল করোনাকালের আগে। করোনা  যেন সবকিছু থামিয়ে দিয়েছে। কিন্তু করোনাকালেও কিছুতেই যে সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা যাচ্ছে না, তার কী হবে। সমাজে সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ নারীরা। তবে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বর্বর হচ্ছে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা। সরকারের পরিকল্পতি উদ্যোগ এবং পুরুষের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই কেবল পারে এই চিত্রের বদল ঘটাতে।

আরো খবর...