নারী ও কিশোরীদের সুরক্ষায় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন দরকার – প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ করোনা চলাকালীন সময়ে নারী ও কিশোরীদের প্রতিরোধমূলক এবং সুরক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনের যথাযথ মূল্যায়নের সঙ্গে বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ণ ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা। গতকাল শনিবার বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২০ পালন এবং স্টেট অব ওয়ার্ল্ড পপুলেশন-২০২০ এর বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডিপিএসডিইউ), এবং ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজিত ওয়েবিনারে তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এ বছর বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘মহামারি করোনাকে প্রতিরোধ করি, নারী ও কিশোরীর সুস্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করি’। ওয়েবিনারটির উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. অসা টর্কেলসন। প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা বলেন, করোনার সময়ে মানুষ ঘরে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে সহিংসতার শিকার হচ্ছে নারী ও শিশুরা। তবে করোনার সময়েও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় হেল্পলাইন, মনোসামাজিক ও আইনি সেবার মাধ্যমে তাদের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে করোনাকালেও নারী ও শিশুর নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালসহ দেশব্যাপী ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও তিন হাজারের বেশি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র কাজ করে যাচ্ছে। করোনার কারণে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২০ ভিন্নভাবে উদযাপিত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর ৩১তম বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত হচ্ছে ‘মহামারি কোভিড- ১৯ প্রতিরোধ করি, নারী ও কিশোরীর সুস্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করছে। বিশ্বের উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম দিকে। দেশের এ অগ্রগতির পেছনে বড় অবদান রয়েছে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের। কারণ দেশে এখন কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ। যাদের বয়স ১৫- ৫৯ বছরের মধ্যে। গত এক দশকে দারিদ্র্যের হার ২০.৫০ শতাংশ ও উচ্চ দারিদ্যের হার ১০.৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে কর্মক্ষম মানুষের এই শ্রেণি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের যে সুবর্ণ সময় পার করছে দেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যেতে তার শতভাগ সুবিধা কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, শিশু মৃত্যু হ্রাসে সাফল্যের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমডিজি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন এবং এজেন্ট অব চেঞ্জ ও ইপিআই কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নে ভ্যাকসিন হিরো পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের ৯০ ভাগ নারী অর্থনীতির অপ্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে কাজ করে যেখানে চাকরির নিশ্চয়তা কম। করোনা তাদের জন্য স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। প্রজনন স্বাস্থ্য নারীর অধিকার উল্লেখ করে ইন্দিরা বলেন, একটা মেয়ের কখন বিয়ে হবে, কখন সন্তান হবে এগুলো তার অধিকার। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই নারীরা সে অধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। তেমনিভাবে নারীদের প্রথম বিয়ের বয়স ১৮ হলেও সেটা সবসময় কার্যকর হচ্ছে না। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনার নেতৃত্বে ও সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশে বাল্য বিয়ে হ্রাস ও জেন্ডার সমতা অর্জনের মাধ্যমে নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বিশ্বে রোল মডেল সৃষ্টি করেছে। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২০ এর উদ্বোধন পর্বে ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম জুমের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আখতারুজ্জামান সূচনা বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএনএফপিএর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. আশা তরকেলশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাদেকা হালিম। অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, কোভিড-১৯ দ্বারা সৃষ্ট বিভিন্ন বৃহত্তর ঝুঁকির বিষয় যেমন প্রাক বিদ্যমান বৈষম্য আরও গভীরতর হওয়া, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ, যেখানে আমাদের নারী ও কিশোরীরা পিতৃতান্ত্রিক সমাজে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও অধিকার সম্পর্কিত প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের সম্মিলিত ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

আরো খবর...