নভেল করোনাভাইরাসে দেশে নতুন কেউ সংক্রমিত হননি – আইইসিডিআর

ঢাকা অফিস ॥ প্রথম তিন জনের পর বাংলাদেশে যাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তাদের কারো শরীরে প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পায়নি রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। এর মধ্যে মঙ্গলবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সাতজনের শরীরের নমুনা পরীক্ষা করে কারও শরীরে ভাইরাসটি না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সরকারি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। দুপুরে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ যে সাতজনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে বিদেশফেরত যাত্রীও রয়েছেন। তার মানে হচ্ছে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তিনজন।” নভেল করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়ার পর রোববার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া তিন জনের মধ্যে দুজন পুরুষ ও এক নারী রয়েছেন। তাদের সবার অবস্থা ‘স্থিতিশীল’ বলে জানান ডা. মীরজাদী। তিনি বলেন, “এদের দুজনের মধ্যে খুবই মৃদু উপসর্গ ছিল। কিন্তু তাদেরকে এখন আমরা ছাড়তে পারব না। পরপর দুটো নমুনা পরীক্ষায় যদি তারা নেগেটিভ হয়, তাহলেই কেবল হাসপাতাল থেকে তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হবে।” নিউমোনিয়া সদৃশ নানা লক্ষণ নিয়ে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে বৃদ্ধ ও রোগাক্রান্তদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি বলে সরকারি গবেষণায় উঠে এসেছে। ঝুঁকিপূর্ণ রোগগুলোর তালিকায় রয়েছে- হৃদরোগ, ডায়াবেটিক, শ্বাসযন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী রোগ ও উচ্চ রক্তচাপ। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৪০১৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ১৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মৃত ও আক্রান্তদের অধিকাংশই চীনের মূলভূখন্ডের বাসিন্দা। তবে এখন চীনে নতুন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। নতুন আক্রান্তের ৯৯ শতাংশ খবর এখন আসছে চীনের বাইরে থেকে। এর মধ্যে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ইতালিতেই সবচেয়ে বেশি। সোমবার ইতালিতে নভেল করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৩৬৬ জন থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৬৩ জন। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে নয় হাজার।

আরো খবর...