নতুন করে চালের দাম না বাড়ানোর আশ্বাস

কুষ্টিয়ায় জেলা প্রশাসকের সাথে চালকল মালিকদের বৈঠক

নিজ সংবাদ ॥ গত দু’সপ্তাহ জুড়ে সব রকম চালের বাজার উর্ধ্বমুখী। কেজিপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ৪-৭টাকা। কিন্তু হঠাৎ করেই চালের বাজার উর্ধ্বমুখী হওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়ে সরকার। কেন চালের বাজার বাড়লো? কারণ খুঁজতে মাঠে নামে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। বর্তমান পরিস্থিতিতে চালের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিক কোন কারণও দেখছেনা সরকারসহ অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এনিয়ে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তাহলে কী মিলারদের কারসাজিতে চালের দাম বাড়ছে? গত দু’দিন ধরেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমনই বিষয় ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইঙ্গিত নয়, সরাসরি মিলারদেরকেই দায়ি করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের অন্যতম বৃহত্তম চালের মোকাম নওগা ও কুষ্টিয়ার মোকামে এমন সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সিন্ডিকেট হোক আর যাই হোক। চালের বাজার অস্থির করা যাবেনা। যারা বাজার অস্থির করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন নির্দেশনা পেয়ে এবার বেশ নড়ে চড়ে বসেছে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে গতকাল রোববার বিকেলে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে জেলার চালকল মালিকদের জরুরী বৈঠক হয়। জেলা প্রশাসক  মো. আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও জেলা পরিষদ’র চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলামও। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন গত দু’সপ্তাহ ধরে চালের বাজার চড়া। চালের বাজার নিয়ন্ত্রনে আনতে হবে। এজন্য কারা দায়ি তা দেখা হবে। তবে চালের বাজারের লাগাম ধরতে হবে। কোন অবস্থাতেই চালের বাজার অস্থির দেখা যাবেনা। এবিষয়ে জেলা চালকল মালিকদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন চালের দাম কমাতে হবে। খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীদেরও একই কথা জানান। লাভ কম করে চালের বাজার স্বাভাবিক রাখতে হবে।

জেলা প্রশাসকের এমন নির্দেশনায় প্রাথমিক পর্যায়ে সন্তুষ্ট হতে না পারলেও পরবর্তিতে ঠিকই সম্মত হন চালকল মালিকরা। আগামী ১৫দিনে চালের দাম বাড়ানো হবেনা মর্মে আশ্বাস দেন তারা।

এবিষয়ে চালকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাস্কিং মিল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশিদ জানান চালের বাজার অস্থিরতায় চালকল মালিকদের কোন হাত নেই। ধানের দাম বেশি হওয়ায় চালের দাম বেড়েছে। জেলা প্রশাসকের বেঁধে দেয়া দরে চাল বিক্রির বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলেও আপাতত আগামী ১৫দিনে চালের দাম বাড়বেনা মর্মে আশ্বাস দেন তিনি। নতুন ধান উঠলেই বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে চালের দাম বৃদ্ধির দায় চালকল মালিকরা নিতে চাননা বলেও জানান তিনি।

এবিষয়ে বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি দেশ এগ্রো’র স্বত্বাধিকারী এমএ খালেক জানান চালের বাজার অস্থিরতার পেছনে চালকল মালিকদের হাত নেই। চালকল মালিকরা বরাবরই সরকারকে সহযোগিতা করে আসছে। আগামীতেও করবে। তবে চাল সিন্ডিকেট বিষয়ে চালকল মালিকদের ঢালাও দোষারোপ তিনিও মানতে নারাজ। চালের দাম যে পরিমান বেড়েছে তার ওপরে আর উঠবেনা বলেও তিনি মনে করেন।

কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও জেলা পরিষদ’র চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম জানান চালের বাজার অস্থির করে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবেনা। যারা চালের বাজার বৃদ্ধির সাথে যুক্ত থাকবেন তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে। এবিষয়ে কোন ছাড় দেয়া হবেনা বলেও জানান তিনি।

এদিকে চালসহ নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক রাখতে আজ থেকে জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং টিম মাঠে থাকবে বলে জানান।

আরো খবর...