দয়া করে ঘরের বাইরে যাবেন না – মুখ্য সচিব

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্বজুড়ে মহামারীর আকার নেওয়া নভেল করোনাভাইরাস বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ায় এই রোগ থেকে বাঁচতে সবাইকে বাসায় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস। মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করে এই আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত ছুটিতে ঘোরাফেরা না করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসায় থাকার নির্দেশনা দেন আহমদ কায়কাউস। বেসরকারি সংস্থায় কর্মরতদের প্রতিও একই আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, “আগামী ২৬ মার্চের সরকারি ছুটি এবং ২৭, ২৮ মার্চের সাপ্তাহিক ছুটির সাথে ২৯ মার্চ হতে ২ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ৩ ও ৪ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন এই বন্ধের সাথে সংযুক্ত থাকবে। এর মানে হচ্ছে, ছুটির মধ্যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই বাসায় থাকবেন।” এই ছুটি ভোগ বা উৎসব ভোগের জন্য দেওয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, “এটি করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করার জন্য দেওয়া হয়েছে। সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ছুটিকালীন কর্মস্থল ত্যাগ করবেন না। সবাই বাসায় থাকবেন।” সবাইকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আমরা আপনাদের অনুরোধ করছি, সবাই ঘরে থাকুন। দয়া করে ঘরের বাইরে যাবেন না। প্রয়োজনের বাইরে কোনোভাবেই যাবেন না। জরুরি প্রয়োজনে যদি যেতে হয় তাহলেও স্যানিটাইজেশন এবং সকল প্রকারের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেই যাবেন। অনুগ্রহ করে বিষয়টি পালন করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি।” সরকারের তরফ থেকে ট্রেন, বাস, লঞ্চে যাত্রী বহন বন্ধ করা হয়েছে জানিয়ে আহমদ কায়কাউস বলেন, “অর্থাৎ আপনারা যে যেই জায়গায় আছেন সবাই আর স্থান ত্যাগ করবেন না। যারা গিয়েছেন তাদেরকে অনুরোধ করব তারা যদি ইতোমধ্যে গিয়ে থাকেন ঘরের বাইরে যাবেন না।” চলাচলের বিষয়ে তিনি বলেন, কাঁচাবাজার, খাবার ওষুধের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবার যে বিষয়গুলো আছে সেগুলো এর আওতার বহির্ভূত থাকবে। তারা সব ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের সেবা দেবে। সব সরকারি দপ্তরে অনলাইনে কাজ করার পদ্ধতি সরকার প্রবর্তন করেছে জানিয়ে মুখ্য সচিব বলেন, “জরুরি কোন প্রয়োজন যদি হয় সেটি অনলাইনে করা যাবে। আপনাদের ছুটিকালীন সময়ে যদি কোনো রকমের অসুবিধা হয় সেটার জন্য সীমিত আকারে ব্যাংক চালু রাখার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।” জনজীবন ব্যাহত না করার জন্য যা যা প্রয়োজন সেই পদক্ষেপ সরকার গ্রহণ করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “একই সঙ্গে আমাদের যারা নিম্নআয়ের মানুষ আছে তাদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয় আমাদের ওএমএস চালু রয়েছে। সরকারের তরফ থেকে জেলা প্রশাসকদের কাছে নগদ টাকা ও খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। “যদি প্রয়োজন হয়, যখনই প্রয়োজন তখনই আমাদের প্রশাসনের তরফ থেকে এই সহায়তাগুলো দেওয়া হবে। অর্থাৎ আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন।” তিনি বলেন, “আপনাদের যখনই কোনো প্রয়োজন হবে আমাদের লোকজন সকল বাড়ি বাড়ি যাবে। আমাদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন। তারাও যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এই রকম যদি কোনো প্রয়োজন হয় তাহলে তারা সবাই পাশে দাঁড়াবে। “কিন্তু জনগণের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ, আপনারা দয়া করে বাসার বাইরে যাবেন না। এটি আমাদের এখন জাতীয়ভাবে সবাই একসঙ্গে মোকাবেলার সময় এসেছে। আমরা সবাই একযোগে সেটি মোকাবেলা করব। আপনারা দয়া করে এই বিষয়ে ব্যত্যয় ঘটাবেন না।”

আরো খবর...