দ্বিতীয় দফা সংক্রমণের আশঙ্কা

পৃথিবীব্যাপী এখনো এক আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। এরই মধ্যে বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা তিন কোটি ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৯ লাখের বেশি মানুষের। ভাইরাস সংক্রমণের দিক থেকে পৃথিবীর শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশও একটি। এরই মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখ ছাড়িয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের। আক্রান্তের হার কিছুটা কমলেও প্রতিদন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে দেড় থেকে দুই হাজারের মতো। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, সাময়িক কিছুটা উপশমে স্বস্তি পাওয়ার কিছু নেই। তাঁরা মনে করছেন, করোনা প্রতিরোধক বিধি-নিষেধ পালনে মানুষ ক্রমেই যেভাবে উদাসীন হয়ে পড়ছে, তাতে আবার ব্যাপক আকারে সংক্রমণ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারও আশঙ্কা করছে, অক্টোবরের শেষে বা নভেম্বরে দ্বিতীয় দফায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে। এ জন্য বর্তমান অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় সংক্রমণ প্রতিরোধে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরো গুরুত্ব দিতে বলেছেন। করোনাভাইরাসের কার্যকর কোনো প্রতিষেধক এখনো মানুষের আয়ত্তে আসেনি। প্রতিকারের জন্য খুব কার্যকর ওষুধও নেই। ফলে করোনা থেকে বাঁচার এখনো প্রধান বা একমাত্র উপায় হচ্ছে প্রয়োজনীয় সচেতনতা ও নিয়ম-কানুন মেনে চলা। কিন্তু দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকার পর এখন মানুষ আর ঘরে থাকতে চাইছে না। জীবিকার প্রশ্নেও অনেকে বাধ্য হচ্ছে ঘর থেকে বেরোতে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ঘোরাফেরাও হচ্ছে প্রচুর। শুরুতে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি আত্মীয়-স্বজনের বাসায় বেড়াতে যাওয়ার প্রবণতাও অনেক বেড়েছে। বাসগুলোতে প্রতি দুই আসনে একজন যাত্রী পরিবহনের যে বিধান ছিল, তা-ও তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে বাস বা অন্যান্য যানবাহনে আবার গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহন শুরু হয়েছে। বাজার, দোকানপাটে মানুষ গাদাগাদি করে কেনাকাটা করছে। রেস্টুরেন্টে বসে আড্ডা দিচ্ছে। নিছক কৌতূহল মেটাতে অনেকে রাস্তায় নেমে ঘোরাঘুরি করছে। আরো বেশি বিপজ্জনক হচ্ছে মুখে মাস্ক না পরার প্রবণতা। রাস্তায় বা হাট-বাজারে অর্ধেক মানুষের মুখেও মাস্ক দেখা যায় না। এভাবে চললে দ্বিতীয় দফার করোনাভাইরাস সংক্রমণ কোনোভাবেই ঠেকানো যাবে না। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে উন্নত দেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছে। অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেটর সুবিধা দিতে না পারায় অনেক রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। বাংলাদেশের অনেক হাসপাতালে অধিকসংখ্যক রোগী হলে অক্সিজেন সুবিধাও ঠিকমতো দেওয়া যায় না। চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীর সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে করোনার চিকিৎসা দেওয়া হলেও সেগুলোর সেবার মান নিয়ে রয়েছে অনেক প্রশ্ন। আমরা মনে করি, হাসপাতালের শয্যা, রসদ-সরঞ্জাম বৃদ্ধি, চিকিৎসাকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান, তাঁদের নানাভাবে উজ্জীবিত করা, পর্যাপ্তসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগসহ আরো যেসব কাজ অর্ধসম্পন্ন আছে, সেগুলো দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে।

আরো খবর...