দৌলতপুর সীমান্তে দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ – গুলিবিদ্ধসহ আহত-২

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে মাদক ব্যবসার পাওনা টাকা নিয়ে দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্দুযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। বন্দুকযুদ্ধে আলমগীর হোসেন (২৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধসহ ২জন গুরুতর আহত হয়েছে। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঠোটারপাড়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটেছে। পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত আলমগীর হোসেন মুন্সিগঞ্জভাঙ্গাপাড়া গ্রামর মৃত শুকুর আলীর ছেলে। বর্তমানে সে কুষ্টিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গুলিতে আহত জাহাঙ্গীর নামে অপর মাদক চোরাকারবারী গোপনে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দৌলতপুর সীমান্তে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালালেও ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গুলিবিদ্ধ আলমগীর হোসেন রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর ডাংয়েরপাড়া এলাকার বচ্চন আলীর কাছে বিপুল পরিমাণ মাদক লেনদেনের টাকা পেতো। টাকা চাওয়া নিয়ে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। দ্বন্দ্বের জের ধরে বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঠোটারপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে সশস্ত্র অবস্থায় উভয় পক্ষ জড়ো হয়। মাদক লেনদেনের পাওনা টাকা নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বন্দুকযুদ্ধ বাঁধে। বন্দুকযুদ্ধে আলমগীর গ্র“পের আলমগীর, হেলাল, বাবু, মানিক, জাহাঙ্গীর, রাকিব, আশিক, এরশাদ, শামিম ও সুকচান এবং বচ্চন গ্র“পের বচ্চন, স্বাধীন, ইমন, সজিব, মিঠুন, মিলন ও রাকিব অংশ নেয়। বন্দুযুদ্ধের আগে বিপুল পরিমান ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইয়াবার টাকা নিয়ে বচ্চন ও হেলালের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উভয়পক্ষ বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। বন্দুকযুদ্ধে উভয়পক্ষের মধ্যে ৫-৭ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। গুলির শব্দে স্থানীয় ক্যাম্পের বিজিবি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে গুলিবিদ্ধ জাহাঙ্গীরসহ বন্দুকযুদ্ধে অংশ নেওয়া মাদক চোরাকারবারীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে পেটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আলমগীরকে উদ্ধার হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এবিষয়ে  সেসময় রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত লেনদেনকে কেন্দ্র করে বচ্চন আলীর গুলিতে প্রতিপক্ষ আলমগীর হোসেন পেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   খবর পেয়ে ভেড়ামারা সার্কেলের এডিশনাল এসপি আল বেরুনী ও দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ঘটনা তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে সেসময় স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের জানান। এ ঘটনার জের ধরে পরদিন বৃহস্পতিবার সীমান্ত এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রক ও গডফাদার থানার চিহ্নিত দালালকে জানিয়ে সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে পুলিশ বিশেষ চালায়। তবে অভিযানের আগে ওই গডফাদার সীমান্তে অভিযানের খবর মাদক চোরাকারবারী ও ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দিলে পুলিশ যাওয়ার আগেই তারা গা ঢাকা দেয়। পুলিশের সাড়াঁশি অভিযানে কেউ গ্রেফতার না হলেও বন্দুকযুদ্ধে অংশ নেওয়া বচ্চন গ্রুপের প্রধান বচ্চনের বাড়ি তছনছ ও রান্নার চুলা ভাংচুর করেছে পুলিশ। অপরদিকে বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ আলমগীরের পেট থেকে অপরেশন করে গুলি বের করা হয় এবং আলমগীরের ভাই বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তবে এ ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে জানাগেছে।

আরো খবর...