দৌলতপুর থানার নবাগত ওসি সমীপে..

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তবর্তী বৃহৎ উপজেলা দৌলতপুর। ১৪টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত এ উপজেলা পাশর্^বতী মেহেরপুর জেলার সমতুল্য। এ উপজেলার পশ্চিমে রয়েছে প্রায় ৪৬ কি. মি. ভারত সীমান্ত। উত্তরে রয়েছে পদ্মা নদীর তীর বেষ্টিত রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলা ও নাটোর জেলার লালপুর উপজেলা। পশ্চিম-দক্ষিণে রয়েছে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলা। প্রমত্তা পদ্মার সাথে লড়াই করে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করে থাকে রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের জনগন। এরমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নটি আলাদা বলয় বেষ্টিত।

আপনি কুষ্টিয়া জেলার শেষ প্রান্ত খোকসা উপজেলায় কর্মরত ছিলেন, তাই দৌলতপুর সম্পর্কে সবকিছু অবগত আছেন। যদি কিছু মনে না করেন দু’একটি অনুরোধ করবো, রাখার দায়িত্ব আপনার। ইতিপূর্বে অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দৌলতপুর থানায় যারা যোগ দিয়ে সততার বুলি আওড়িয়ে নিজ নিজ কর্মদক্ষতা দেখিয়েছেন তাদের মধ্যে দু’একজন বাদে কথার বুলি সাথে কর্মের বুলির খুব একটা মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। এদিক থেকে আপনি হয়তো ব্যতিক্রম হবেন, সেটা ভেবে নিয়েই একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে কিছু প্রস্তাবনা রয়েছে আপনার সমীপে।

দৌলতপুর থানা কেন্দ্র্রিক একটি দালাল চক্র রয়েছে, যারা সকাল ১০টায় অফিসে যাওয়ার মত প্রতিদিন থানায় হাজির হয়ে থাকেন। এদের কাজ কেউ থানায় অভিযোগ করতে আসলে সব কাজ করে দেওয়ার কথা বলে ভূক্তভোগীকে অর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ করান। এরপর শুরু বিভিন্ন তালবাহানা ও ওই ব্যক্তিকে হয়রানি করা। তবে সবার সাথে এমনটি করা হয় না। গ্রামের সহজ সরল কাউকে পেলে এমনটি হয়ে থাকে। তুচ্ছ ঘটনা সহ সব ধরণের ঘটনাকে ঘিরে ওই দালাল চক্র নিয়মিত শালিস দরবার করে থাকে। এদের মধ্যে দু’টি পক্ষ করা হয়। গঠন করা হয় জুরিবোর্ড। ভয় দেখিয়ে জুরিবোর্ডের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য করা হয় ভূক্তভোগীদের। সেক্ষেত্রে লেনদেন হয় মোটা অংকের অর্থ।

মাদকের স্বর্গরাজ্য হিসেবে খ্যাত দৌলতপুর সেটি নিশ্চয় ইতোমধ্যে অবগত হয়েছেন।

দৌলতপুর সীমান্তের ওপার ভারত ভূখন্ডে তারকাটার বেড়া বেষ্টিত থাকলেও অর্ধেকের বেশী সীমান্তে রয়েছে তারকাটা বিহীন। মাদক ব্যবসার সাথে সীমান্তের অনেকেই জড়িত রয়েছে। চিহ্নিত ওইসব মাদক ব্যবসায়ীদের গড়ে তোলা সিন্ডিকেট চক্রের ছাত্রছায়ায় প্রতিদিনই সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার হয়ে হাত বদল হয়ে দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। আর এ চক্রের সাথে পূর্বে যারা ছিলেন এবং বর্তমানে আপনার অধীনস্থ অনেকেই সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে সীমান্ত এলাকাবাসীর এমন অভিযোগ রয়েছে। আমার বিশ^াস এ বিষয়টি আপনি দেখবেন। এরআগে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের অনেকেই দৌলতপুরকে মাদকমুক্ত করতে না পারলে হাতে চুরি পরে চলে যাওয়ার ঘোষনা দিলেও বাস্তবে তার কোনটাই হয়নি। সীমান্তের মাদক ব্যবসায়ীদের একজন নিয়ন্ত্রক ও গডফাদার রয়েছেন যিনি সীমান্তের ‘বড়ভাই’ হিসেবে সবার কাছে পরিচিতি। সেই বড়ভাইয়ের সাথেও আপনাদের অনেকের গভীর সখ্যতা রয়েছে। বড়ভাইয়ের ছোট ভাই সীমান্তের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের একজন। অথচ সে সব সময়ই বড়ভাইয়ের আশির্বাদে থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। বড়ভাই ছোটভাইসহ সবধরণের ভাইদের আপনি দেখে শুনে ব্যবস্থা নিলে দৌলতপুর শতভাগ মাদকমুক্ত না হলেও নিয়ন্ত্রনে থাকবে এ বিশ^াস দৌলতপুরের সচেতন মহলের।

আর একটি বিষয় নাম সর্বস্ব ভুইফোড় সামাজিক যোগাযোগ নির্ভর কথিত সব গণমাধ্যম কর্মী দাবি করে কারনে অকারনে আপনার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে তার অসৎব্যবহার করার চেষ্টা করবে সেবিষয়টিও নিশ্চয় সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে সচেতনতার লক্ষ্য রাখবেন।

সর্বপরি দৌলতপুরের একজন নাগরিক হিসেবে আপনার কাছে এমন দাবি করতেই পারি। অন্যভাবে না নিয়ে দেশের গর্বিত জনসেবক ও বন্ধু হিসেবে নিজের দায়বদ্ধতা থেকে সৎ ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করলে আপনার সমীপে রাখা প্রস্তাবগুলি আপনা আপনি বন্ধ হবে। এ বিশ^াস আমার আছে। ভাল থাকবেন। দৌলতপুর থানায় ওসি হিসেবে যোগদানের জন্য আপনাকে অভিনন্দন ও রইলো শুভকামনা।

আরো খবর...