দৌলতপুরে লালচাঁদ বাহিনীর ক্যাডার সন্ত্রাসী কালামের অত্যাচার ও নির্যাতনে গ্রামবাসীরা আতঙ্কে

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে লালচাঁদ বাহিনীর অন্যতম ক্যাডার শীর্ষ সন্ত্রাসী কালামের অত্যাচার ও নির্যাতনে ৪ গ্রামের নিরীহ সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, চুরি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধের অন্তত এক ডজনেরও বেশী মামলা রয়েছে। পুলিশের হাতে একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও সে জামিনে ছাড়া পেয়ে একই কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়। ফলে তার অত্যাচার ও নির্যাতনে এলাকার সাধারণ মানুষ সর্বদা ভীতসন্ত্রস্থ ও আতঙ্ক অবস্থায় থাকে। সন্ত্রাসী কালামের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে তার ওপর নেমে আসে নির্যাতন, হামলা, চাঁদা আদায় ও ধর্ষণের মত অমানবিক ঘটনা। দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহিরমাদী-সিরাজনগর এলাকায় সে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রয়েছে। লালচাঁদ বাহিনীর অন্যতম শীর্ষ ক্যাডার ও আবুল কালাম ওরফে সন্ত্রাসী কালামের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ভয়ে বাহিরমাদী, টলটলি পাড়া, সিরাজ  নগর ও ইসলামপুর সহ আশপাশের ৪ গ্রামের মানুষ সর্বদা থাকে আতঙ্কে। গত ৩০ মে তারিখে সকালে সিরাজনগর গ্রামে মোহন মাষ্টারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার মা মোমেন খাতুন (৫৫) কে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। সন্ত্রাসী হামলার এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় মামলা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। এছাড়াও মৃত ওয়াহাব মহলদারের ছেলে সাহাবের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সে টাকা আর ফেরত দেয়নি। টাকা চাইলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে থাকে সন্ত্রাসী কালাম এমন অভিযোগ ভূক্তভোগীর। পাশর্^বর্তী কামার পাড়ার মান্নান ও জোতি কামারের বাড়িতে ডাকাতি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সন্ত্রাসী কালাম ২০০১ সালে শান্তিনগর গ্রামে গরু চুরি করতে গিয়ে গরুর মালিক আরসেদ আলীকে হত্যা করে। সেসময় সিরাজনগর খাঁ পাড়ায় হেবাজ আলীর স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে কে জোরপুর্বক ধর্ষন করে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। সন্ত্রাসী কালামের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় যেসব মামলা রয়েছে তারমধ্যে ২০১৯ সালের ৩ জুনে মামলা নং ৮, ২২ সেপ্টেম্বরে মামলা নং ২৮, জি আর মামলা নং ১১ ও ১৬ ডিসেম্বরের মামলা নং ৩১ এবং জি আর মামলা নং ৫৭১। ২০১৮ সালে ১১ জুনের মামলা নং ২৪, জি আর মামলা নং ২৫১। ২০০৮ সালে ২৫ শে অক্টোবরের মামলা নং ৩৫, জি আর নং ৪৪৯, একই বছরের ৮ ডিসেম্বরের মামলা নং ৯ এবং ২০০১ সালে ১১ জুনের মামলা নং ২৩, জি আর নং ৩১৭। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে সন্ত্রাসী কালাম সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ছেড়ে স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনে ফিরে আসার কথা স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন। সন্ত্রাসী কালামের বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম আরিফুর রহমানর বলেন, কালামকে বেশ কয়েক বার গ্রেপ্তার আদালতে সোপর্দ করেছি। জামিনে এসে সে এলাকায় গাঁ ঢাঁকা দিয়ে থাকে। তবে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সন্ত্রাসী কালামের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেকে বাঁচতে এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামানা করেছেন।

আরো খবর...