দৌলতপুরে পিয়ারা চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের

শরীফুল ইসলাম ॥ পিয়ারা ভিটামিন সমৃদ্ধ একটি সুস্বাদু ফল। বছরের সবসময় এই পিয়ারা ফলের চাষ হলেও বর্ষা মৌসুমে এই ফলে পরিপূর্ণ থাকে হাট-বাজার। তাই ক্রেতারা পছন্দের পিয়ারা ফলটি ক্রয় করে বাড়ি নিতে ভুলেন না। পিয়ারা চাষের জন্য কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মাটি অনুকুল হওয়ায় এখানকার কৃষকদের পিয়ারা চাষে আগ্রহ বেড়েছে। অর্থকরী ফল হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন তারা। জেলায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরণের পিয়ারা ফলের চাষ হয়েছে। যার অর্ধেকই দৌলতপুরে। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ার পাশাপাশি বছরের সবসময় এই ফলটি মানুষের শরীরের ভিটামিন ও পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে থাকায় বেকার যুবক থেকে শুরু করে কৃষকরাও এই পিয়ারা চাষে ঝুঁকেছেন। আবার কেউ চাকুরীর পাশাপাশি পিয়ারা চাষ করে আর্থিকভাবে হয়েছেন স্বাবলম্বী। দৌলতপুর উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের সরকারী চাকুরীজীবী যুবক সামিউর রহমান চাকুরীর পাশাপাশি পিয়ারাফল চাষ করে হয়েছেন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী। তিনি ১৩ বিঘা জমিতে পেয়ারার বাগান করেছেন। তিনি আরও জমিতে পিয়ারা চাষ সম্প্রসারন করার কথা জানিয়েছেন। আবার বাগান থেকে পিয়ারা ফল সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরাও হচ্ছেন লাভবান। কম পুঁজি বিনিয়োগ করে হাটে বাজারে তা বিক্রয় করে সংসারের স্বচ্ছলতাও ফিরেছে অনেকের। দৌলতপুর উপজেলা বাজারের ফল ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম বিভিন্ন ধরনের ফল বিক্রয়ের পাশাপাশি পেয়ারাও বিক্রয় করে থাকে। বর্তমানে তিনি প্রতি কেজি পেয়ারা ৪০ টাকা দরে বিক্রয় করছেন। পিয়ারা চাষে কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি পিয়ারার ফলন বৃদ্ধিতে চাষীদের সার্বিক সহায়তার কথা জানিয়েছেন দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম কামরুজ্জামান। ডাক্তারদের পরামর্শ মতে করোনা প্রতিরোধে ও এন্টিবডি তৈরীতে পিয়ারা ফল কার্যকরী। তাই বর্তমান এই দুঃসময়ে পিয়ারা চাষ বৃদ্ধির করে সবার ক্রয় সীমার মধ্যে রাখা জরুরী। এমনটাই মনে করেন এ অঞ্চলের সর্বসাধারণ।

আরো খবর...