দৌলতপুরে পিয়াজের কেজি শতকের নীচে নামলেও এখনও রয়েছে ভোক্তাদের ক্রয়সীমার বাইরে

শরীফুল ইসলাম ॥ পিয়াজের ঝাঁঝ ও মরিচের ঝাল এ দুটোই এখন সাধারণ ক্রেতা বা ভোক্তাদের দূর্লভ খাদ্যপন্যে পরিণত হয়েছে। খিচুড়ি রান্না শিখতে বিদেশে যাওয়া নিয়ে যখন দেশে জগাখিচুড়ি চলছে সেই খিচুড়ি রান্নাতেও অপরিহার্য মসলা হিসেবে পিঁয়াজ ও মরিচের বিশেষ প্রয়োজন। যা এখন সাধারণ ভোক্তা বা ক্রেতাদের ক্রয়সীমার নাগালের বাইরে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের আড়ৎদার ও ব্যবসায়ীদের দাবি বেশী দামে ক্রয় করে সীমিত লাভে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে তারা পিয়াঁজ বিক্রয় করছেন। তাই পিয়াঁজের দাম বৃদ্ধিতে তাদের কোন হাত নেই। এদিকে খুচরা বাজারে পিঁয়াজ ক্রয় করতে গিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের নাভিশ^াস অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। হঠাৎ করে মসলা জাতীয় সবজি পিয়াঁজের দাম বৃদ্ধিতে সারা দেশের ন্যায় দৌলতপুরেও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দ্বিগুনেরও বেশী দামে পিয়াঁজ ক্রয় করতে ভোক্তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। তবে খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি বেশী দামে পিয়াঁজ ক্রয় করে সীমিত লাভে বিক্রয় করছেন তারা। খুচরা বাজারে দেশী পিয়াঁজ বিক্রয় হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকা দরে আর ভারতীয় এলসি’র পিয়াঁজ বিক্রয় হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা দরে। যা দ্বিগুনেরও বেশী দাম বলে জানিয়েছে সাধারণ ক্রেতারা। দৌলতপুরের সর্ববৃহৎ পিয়াঁজের পাইকার বাজার তারাগুনিয়া। গতকাল শনিবার সকালে সেখানে আসমত আলী নামে এক খুচরা ব্যবসায়ী পিয়াঁজ ক্রয় করতে গিয়ে জানান, কেজি প্রতি ২-১ টাকা লাভে তারা সাধারণ ক্রেতাদের কাছে পিয়াঁজ বিক্রয় করে থাকেন। যা লাভ করার তা পাইকার ও আড়ৎদাররা করে থাকেন। তবে জনি ইসলাম ও বুলবুল হোসেন নামে পাইকার ব্যবসায়ীর অভিযোগ করেন, আড়ৎদার বা পিয়াঁজ আমদানীকারকদের সিন্ডিকেটের কারনে পিঁয়াজের দাম বৃদ্ধি হয়েছে। এদিকে সিন্ডিকেটের কথা অস্বীকার করে পিঁয়াজ আমদানীকারক আফতাবুল ইসলাম জানিয়েছেন, বেশী দামে পিঁয়াজ ক্রয় করতে হচ্ছে তাই তাদেরও কেজি প্রতি ১-২ টাকা লাভে পাইকার ও ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রয় করতে হচ্ছে। এখানে তাদের কোন হাত বা সিন্ডিকেট নেই। বাজার নিয়ন্ত্রনে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি অতিমুনাফালোভী সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের মজুদদারী বন্ধে প্রয়োজন সরকারী হস্তক্ষেপ। এমনটাই দাবি সাধারণ ভোক্তা ও ক্রেতাদের।

আরো খবর...