দৌলতপুরে ধর্ষণের বিচার চেয়ে দারে দারে ঘুরছে ভিক্ষুক পরিবার

ভিক্ষুকের মেয়েকে ধর্ষণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভিক্ষুকের মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণকারী যুবক আরিফ হোসেন (২৪) এর বিচার চেয়ে দারে দারে ঘুরছে ধর্ষিতা ভিক্ষুক পরিবার। প্রভাবশালী ধর্ষণকারী যুবকের বিচার না করে উল্টো অর্থের বিনিময়ে ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে ধর্ষিতার পরিবারকে প্রভাবশালী মানিক মেম্বর নামে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য নানাভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানি করছে বলে অভিয়োগ উঠেছে। ধর্ষিতা পরিবার ও এলাকাবাসি সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের ভিক্ষুক চান্দু ফকিরের মেয়ে জোনাকী আক্তারের (১৯) সাথে পার্শ্ববর্তী জোয়ার্দ্দারপাড়া গ্রামের বক্কর মন্ডলের ছেলে আরিফ হোসেনের প্রায় ২বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই এক পর্যায়ে একবছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী লক্ষিখোলা গ্রমের সিরাজ আলীর ছেলে বাখের আলীর সাথে জোনাকি আক্তারের পারিবারিকভাবে  বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের দিনই প্রেমিক আরিফ নব বিবাহিত জোনাকি আক্তারের স্বামী বাখেরের বাড়িতে হামলা করে ঘরের দরজা ভাংচুর করে এবং জোনাকি আক্তারকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এমতাবস্থায় স্বামী বাখের আলী ওই রাতেই স্ত্রী জোনাকি আক্তারকে তালাক দিয়ে তার পিতা ভিক্ষুক চান্দু ফকিরের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এঘটনার বিচার চেয়ে চান্দু ফকির আরিফের পিতা বক্কর মন্ডলকে জানালে বক্কর মন্ডল তার ছেলে আরিফকে নিয়ন্ত্রন করতে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনার পর আরিফ হোসেন তার নিজ নামে একটি সিমসহ মোবাইল ফোন কিনে দেয় জোনানিকে। এরপর থেকে নিয়মিত তাদের দুই জনের সাথে মোবাইলে কথা হয়। এরই সূত্র ধরে গত ২৯ আগষ্ট রাত ১১টার দিকে আরিফ হোসেন ভিক্ষুক চান্দুর ফকিরের বাড়িতে গোপনে প্রবেশ করে তার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। জোনাকী আক্তার বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হলে তাকে নিয়ে আরিফ হোসেন বাড়ির পার্শ্ববতী একটি বাগানে যায় এবং তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় ধর্ষিতা চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে ধর্ষক আরিফ হোসেন পালিয়ে যায়। পরে ধর্ষিতা বাড়ি ফিরে বিষয়টি তার পরিবারের লোকজনকে জানালে ভিক্ষুক চান্দু ধর্ষনের ঘটনা স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক মেম্বর ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের জানায়। তবে তারা প্রভাবশালী আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষনের বিচার না করে বিষয়টি ধামা চাপা দিতে গড়িমসি করে ও আরিফের আতœীয় স্বজন জোনাকির সাথে তার বিয়ে দিবে বলে আশ্বাস দেয়। গত ১লা সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে এলাকার জদ্দারপাড়া মোড়ে এ ঘটনায় একটি গ্রাম্য শালিশ হয়। শালিশে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরসহ উপস্থিত সকলে উভয়ের বক্তব্য শুনে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে প্রেম ও ধর্ষনের ঘটনাটি প্রমানিত হলেও শালিশ বোর্ড বিচার না করে উল্টো জোনাকি আক্তারের ইজ্জতের মূল্য হিসাবে ধর্ষক আরিফকে জোনাকির পিতা চান্দু ফকিরের পা ধরে মাফ চাওয়ার নির্দেশ দেন। এসময় ধর্ষণের সঠিক বিচার না পেয়ে ধর্ষিতা জোনাকি আক্তার আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে জোনাকি ও তার পিতা বিচার না পেয়ে শালিশ বয়কট করে বাড়ি ফিরে যান। কোন উপায় খুঁজে না পেয়ে ধর্ষিতা জোনাকী আক্তার তার ধর্ষনের বিচার চেয়ে ধর্ষক আরিফ হোসেন ও তার পিতা বক্কর মন্ডলের নামে গত ২সেপ্টেম্বর রোববার দৌলতপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন যার নং-৮। এদিকে এ ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় ও অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে উল্টো ধর্ষনের ঘটনাটি মিথ্যা দাবি করে এ ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রভাহিত করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় মানিক মেম্বরের নেতৃত্বে ধর্ষক আরিফের পিতা বক্কার মন্ডল ধর্ষণ মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ধর্ষিতা পরিবারকে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। এছাড়াও সে ধর্ষনের ঘটনা মিথ্যা দাবি করে কথিত সংবাদিক সম্মেলনও করেছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক মেম্বর বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অর্থনৈতিক লেনদেনের কথা বলা হয়েছে, তার কোন ভিত্তি নেই। একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে আমি শালিশ বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম, তবে মেয়েটার সাথে ছেলেটার নাকি বিয়ে হবে এমন কথা শুনেছি। এ ব্যাপারে রিফায়েতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামিরুল ইসলাম বাবু বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন ও  ঘটনার একশত ভাগ সত্যতা পেয়েছেন। ছেলে মেয়ে উভয়ের মধ্যে দীর্ঘ দিনের প্রেম ও শারিরিক সম্পর্ক ও  রয়েছে। এবিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফিরোজ বলেন, আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ধর্ষিতা তার বিচার পাক এবং ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক এমন দাবি এলাকাবাসীর।

আরো খবর...