দৌলতপুরে ডাক বিভাগের বেহাল দশা

দেখার কেউ নেই

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ একযুগ বা তারও আগে মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল ডাক বিভাগ। সরকারী বা বেসরকারী কিংবা পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ হতো পত্রের মাধ্যমে। আবার ভালবাসার নান্দনিক শব্দ মিশ্রিত রং বেরংয়ের পত্র মিতালি প্যাাডের পাতা ভরে প্রেমিক প্রেমিকা তাদের মনের ভাব প্রকাশ করতো পত্রের মাধ্যমে। আর হলুদ খামসহ রং বেরংয়ের খামে ভরা এসব পত্র দেশ বা বিদেশের নানা প্রাপ্ত থেকে ডাক বিভাগের মাধ্যমে বাহকের হাতে পৌঁছাতো। ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তির বদৌলতে জৌলুসভারা ডাক বিভাগের সেই জৌলুস সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে যেতে বসেছে। চিঠির ঝুলি কাঁদে হেলে দুলে চলা ডাক পিওনের কদর আর চোখে পড়ে না। সময়ের প্রয়োজনে গুরুত্ব হারিয়েছে ডাক বিভাগের হাক-ডাক, তাই গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে ডাক বাক্সও। বিভিন্ন বাজার বা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো ডাক বাক্স আর চোখে পড়ে না। দু’একটির দেখা মিললেও নিয়মিত না খোলায় তাতে ঝুলানো তালা’তে মরিচা পড়ে জরাজীর্ণ অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। সারা দেশের ন্যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ডাক বিভাগের চিত্র একই। দৌলতপুরে ২০টি সাব-পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে ১৪ ইউনিয়নের প্রায় ৭লক্ষ মানুষের ডাক সেবা ও প্রাপ্ত সকল সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও তথ্য প্রযুক্তির যাঁতাকলে বাঁধা পড়ে তা থেকে প্রায় বঞ্চিত রয়েছেন সকলে। আবার যারা ডাক বিভাগের দায়িত্বে আছেন তাদেরও রয়েছে দায়িত্বহীন কর্মকান্ড ও অবহেলা। দৌলতপুরে ডাক বিভাগের জন্য অফিস বরাদ্দ থাকলেও সেসব অফিস এখন ভিন্ন কাজে ব্যবহার হচ্ছে। একই সাথে সাব-পোষ্ট অফিসগুলিতে ৩জন ষ্টাফ থাকার কথা থাকলেও খাতা-কলমে রয়েছে বাস্তবে তার দেখা মিলেনি। ‘কাজীর গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই’ এমন অবস্থা। ফলে ওইসব ডাকঘরে রক্ষিত প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিসহ অফিসিয়াল সরকারী কাগজপত্র অযতœ অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে যা দেখার কেউ নেই। আবার কোথাও দু’একটি জরাজীর্ণ ডাকবাক্স চোখে পড়লেও খোলার অভাবে ভেতরে থাকা চিঠি-পত্র ভেতরেই রয়ে যায় পৌঁছায় না বাহকের কাছে। বেকার যুবকরা চাকুরীর জন্য আবেদন করলে নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশ পত্র চাকুরী প্রার্থীদের হাতে পৌঁছায় না। যদি দু’একটি পৌঁছাই তাও পরীক্ষার তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর। এমন অভিযোগ ভূক্তভোগীদের। দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে। দৌলতপুর ডাক বিভাগের বেহাল দশার বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা পোষ্ট মাষ্টার আবু সালেহ গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করলেও ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের কথা বলেছেন। মজার ব্যাপার হলো, দৌলতপুর ডাক বিভাগের এসব অব্যস্থাপনার খবর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও রাখেন না। এ অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা উপ-বিভাগীয় পরিদর্শক অলোক কুমার স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন দৌলতপুরে ডাক বিভাগের অচলাবস্থার তথ্য তার কাছে নেই। তবে ডাক বিভাগের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমন দাবি সেবা প্রত্যাশীসহ দৌলতপুরবাসীর।

আরো খবর...