দৌলতপুরে করোনার সচেতনতা বেড়েছে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও

বিদেশ ফেরতদের বাড়িতে উড়ছে লাল নিশানা ; সর্বত্র কমেছে জনসমাগম

শরীফুল ইসলাম ॥ ‘করোনা কাউকেই করছে করুনা’ এমন আতংক, উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা থাকা সত্বেও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বেড়েছে করোনা সচেতনতা। পাশাপাশি হোম কোয়ারেণ্টিনে থাকা বিদেশ ফেরতদের বাড়িতে বাড়িতে উড়ানো হয়েছে লাল নিশানা। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা কেউ বাড়ির বাইরে বের হলে তাদের বাধ্য করা হচ্ছে হোম কোয়ারেন্টিন মানাতে। এদিকে করোনা আতংকে ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসমাগম নিষিদ্ধ হওয়ার পর গতকাল বুধবার দৌলতপুরের বিভিন্ন হাট-বাজার ও অফিসপাড়াতে জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়নি। দৌলতপুরে বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের মধ্যে গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত ২০৮জন ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা বিদেশ ফেরতদের বাড়িতে বাড়িতে লাল নিশানা উড়ছে। বিদেশ ফেরত ব্যক্তির অবস্থান সহজে বুঝতেই উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে লাল নিশানা উড়ানো হয়। সেই সাথে সতর্ক করা হয়েছে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের কোন অবস্থাতেই ঘর ও বাড়ির বাইরে না যাওয়ার। এমন নির্দেশনা মেনেও চলছেন বিদেশ ফেরতরা। একই সাথে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্ত সংলগ্ন পাকুড়িয়া গ্রামের বিদেশ ফেরত আসাফুল ইসলামের পিতা মো. ভিকু মন্ডল জানান, তার ছেলে কয়েকদিন আগে বিদেশ থেকে বাড়ি এসেছে। সে সবসময় বাড়িতেই অবস্থান করছে। পুলিশ এসে বাড়িতে লাল নিশানা পুতে দিয়েছে এবং ১৪ দিন বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করেছে। সেই থেকে আমার ছেলে বাড়িতেই রয়েছে। সে কারোর সাথে মেলা মিশাও করছে না। মহিষকুন্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত বিষয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। বাজার-ঘাটে সাধারণ মানুষের সমাগম কমেছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে না।  শুধু হাট-বাজারে নয়, করোনা ভাইরাসের সচেতনতা মাঠ পর্যায়ের সরকারী দপ্তরগুলোতেও বেড়েছে। দাপ্তরিক কাজে আসা ওইসব অফিসগুলোতে সাধারণ মানুষকে করোনা সচেতনে যা যা করনীয় তা করে তাদের দাপ্তরিক কাজে সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মহিষকুন্ডি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকতা মো. সফিকুল ইসলাম সফি। তিনি বলেন, তার দপ্তরে কেউ আসলে প্রথমে তাকে সাবান দিয়ে অথবা স্যানিটারাইজার হাত পরিস্কার করে এবং মাস্ক পরিয়ে তার কাজে সহযোগিতা করা হচ্ছে। সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি করোনা ভাইরাস সচেতনতা সৃষ্টিতে গ্রামের সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে চলেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, প্রতিনিয়ত গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষসহ সবধরণের মানুষকে করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতন করা হচ্ছে। সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার করা, বিদেশ ফেরতদের সাথে মেলা মিশা না করা, জনসমাগম না ঘটানো। তবে অধিকাংশ মানুষ এ ব্যাপারে অনেক সচেতন বলেও তিনি জানান। শহর কিংবা গ্রাম যেখানেই হোক কেন করোনা ভাইরাস বিষয়ে সচেতন হলে এ রোগ থেকে অনেকটা নিরাপদ থাকা সম্ভব। তাই সচেতনতা থাকায় করোনা মুক্তির অন্যতম মাধ্যম বলে মনে করেন সচেতন মহল। আর এমন প্রত্যাশা হোক আমাদের সকলের।

আরো খবর...