দৌলতপুরে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কমিটিগুলো অন্ধকারে

ত্রি-ধারায় বিভক্ত নেতা-কর্মীরা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মধ্যে ১০টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাঁকী ৪টি চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের সম্মেলন আগামীকাল শুক্রবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ১০টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পন্ন হলেও কোন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটির নাম ঘোষনা করা হয়নি। অথচ সম্মেলন স্থলেই ইউনিয়ন কমিটির অন্তত: শীর্ষ পদগুলির নাম ঘোষনার মধ্যদিয়ে সম্মেলন সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু তা করা হয়নি। সবই রয়েছে অন্ধকারে। কারন দলীয় কোন্দল, দলের নেতা-কর্মীদের বিশৃঙ্খলা এবং কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হলে বঞ্চিতরা বিক্ষোভ করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে এমন আশংকা থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থল থেকে কমিটির নাম ঘোষনা করা হয়নি বলে দলীয় নেতাদের অভিমত। যার কারনে প্রতিটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থল থেকে পদ প্রত্যাশীদের একাধিক প্যানেল জমা হলে তা বগলদাবা করে জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে এক প্রকার অবমূল্যায়িত হয়েছে দৌলতপুর আওয়ামী লীগের বর্তমানে যে কমিটি রয়েছে সে কমিটির নেতৃবৃন্দ। আর এমনই অভিমত প্রকাশ করেছেন মাঠ পর্যায়ের আওয়ামী লীগ দলীয় নেতা-কর্মীরা। গতকাল বুধবার ছিল রিফায়েতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এ সম্মেলনেও সভাপতি পদে ২৩ জন আর সাধারণ সম্পাদক পদে ২২জন প্রার্থী নিজেদের নাম ঘোষনা করেছেন। এখানেও সব প্রার্থীদের নামের তালিকা বগলদাবা করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে জেলা সদরে।

বর্তমানে দৌলতপুর আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব চলছে তিন ধারায় বিভক্ত হয়ে। আর তিন ধারা সমর্থিত নেতা-কর্মীরা ইউনিয়ন কমিটির পদ পাওয়ার আশায় পৃথক পৃথক প্যানেল জমা দিয়ে জট বাঁধিয়েছেন। এদের মধ্যে দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক এমপি আফাজ উদ্দিন সমর্থিত মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ভিড় ভাট্টা বেশী লক্ষ্য করা গেছে। সাবেক এমপি রেজাউল চৌধুরী সমর্থিত নেতা-কর্মীরাও রয়েছেন ভিড় ভাট্টার দলে। আর সব সময়ই সরকার দলীয় এমপি’র কাছাকাছি থাকা দলছুট কিছু নেতা-কর্মী রয়েছেন, যারা এমপি’র নেক দৃষ্টি পাবেন এমন আশায় ছুটোছুটিতে ব্যস্ত রয়েছেন। পদ পাওয়ার আসায় তারাও রয়েছেন বগলদাবা তালিকায়। সব মিলিয়ে তিন ভাগে বিভক্ত নেতা-কর্মীরা একমত না হওয়ার কারনে কোন কমিটির তালিকা চুড়ান্ত হয়নি। আগামী ১৯ নভেম্বর দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সম্মেলনে ইউনিয়ন পর্যায়ের পদ পাওয়া নেতাদের সমর্থনে দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদ নির্বাচিত হবে। কিন্ত যারা উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতা নির্বাচন করবেন তারাও এখনও রয়েছেন অন্ধকারে। তারপরও দৌলতপুরের তৃণমুল পর্যায়ের নেতা কর্মীরা আশায় বুক বাঁধছেন। কারন ২০০২ সালের দৌলতপুর আওয়ামী লীগের কমিটি দিয়ে দীর্ঘ দেড় যুগ পার হয়েছে। নতুন কমিটিতে নতুন নেতৃত্ব আসবে যারা দৌলতপুর আওয়ামী লীগকে নতুন করে ঢেলে সাজাবে যেখানে থাকবেনা বিএনপি-জামায়াত থেকে আসা পরগাছা।

দৌলতপুরের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি অন্ধকারে থাকার বিষয়ে দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমন বলেন, সময় স্বল্পতার কারনে তড়ি ঘড়ি করে দ্রুততার সাথে ইউনিয়ন সম্মেলন সম্পন্ন করা হচ্ছে। একাধিক প্রার্থী ও প্যানেল জমা হওয়ায় পর সমঝোতা না হওয়ার কারনে সবার তালিকা একত্রিত রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বীরা নিজেরা ঐক্যমতে পৌঁছাতে না পারলে তখন বসে ইউনিয়ন কমিটিগুলো নির্বাচন করা হবে।

আরো খবর...