দৌলতপুরের এক নারীকে নির্যাতনের পর দু’সন্তানসহ তাকে তালাক দিয়েছে পুলিশ

মামলা তুলে নিতে হুমকি

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের এক নারীকে নির্যাতনের পর দু’টি সন্তানসহ তাকে তালাক দিয়েছে সাইফুল ইসলাম নামে এক পুলিশ। এনিয়ে মামলা হলে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিচ্ছে ওই পুলিশ। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিনর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার ওপর চালানো হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। দু’টি সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সকল নির্যাতন মুখ বুঝে সহ্য করেও সংসারে থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অত্যাচারের পর পাষন্ড এএসআই স্বামী অবশেষে তাকে তালাক দিয়ে সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় বিচারের দাবীতে দুই সন্তানসহ আদালতের স্মরণাপন্ন হলে মামলা তুলে নিতে স্বাক্ষীসহ তাদের নানাভাবে হুমকি-ধামকি অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে নিলুফা ইয়াসমিন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বৈরাগীরচর গ্রামের বাবা আবু আব্দুল্লার বাড়িতে অবস্থান করছেন। নিলুফার স্বজনদের অভিযোগ, ২০১০ সালে বিয়ে হয় সেসময় পুলিশের এএসআই ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট গ্রামের মুন্নু মোল্লার ছেলে সাইফুল ইসলামের সাথে। একই কলেজে লেখাপড়ার সুবাদে পরিচয় হয় বিয়ের আরো দু’এক বছর আগে। বিয়ের পর থেকে নিজ বাড়ি কাশিয়ানীতে নিয়ে নানা অজুহাতে নিলুফাকে প্রতিনিয়ত মারধরসহ শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতে থাকেন সাইফুল ইসলাম। তাদের সংসারে দুটি সন্তান থাকায় নিলুফার বাবার পরিবারের পক্ষ থেকে সাইফুলের সাথে কথা বলা হলেও সাইফুল কারও কথা আমুলে নিতেন না। বরং নির্যাতন বন্ধ হওয়ার পরিবর্তে সাইফুল আরো ক্ষিপ্ত হয়ে নিলুফার উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দিতেন। নিলুফার স্বজনরা তাকে স্বামী সাইফুলের বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি নিয়ে আসতে চাইলেও সন্তানের দোহায় দিয়ে তিনি বারবার স্বামীর বাড়িতেই থাকতে চাইতেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে সাইফুল কঙ্গোতে মিশনের ডাক পেলে সেখানে যাওয়ার জন্য নিলুফার বাবার কাছে টাকা দাবী করে। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে নিলুফার বাবা আবু আব্দুল্লাহ মোল্লা সাইফুলকে মিশনে যাওয়ার আগে এক লক্ষ টাকা দেন। মিশনে যাওয়ার কিছুদিন পর থেকে পরকিয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সাইফুল। মিশনে থাকা অবস্থায় সাইফুল নিলুফার সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ২০১৮ সালের মে মাসে মিশন থেকে ফিরে এসে নিলুফার উপর আবারও নির্যাতন চালাতে থাকে সাইফুল। এক পর্যায়ে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে নিলুফাকে তালাক দেন সাইফুল। বিভিন্ন জায়গায় ধর্না দিয়েও ন্যায় বিচার না পেয়ে অবশেষে ২০১৮ সালের আদালতে মামলা করেন নিলুফা। মামলা দায়েরের পার থেকেই নিলুফা ও তার স্বজনদের নানা ভাবে হয়রানীসহ মামলা তুলে নিতে চাপ দিতে থাকেন সাইফুল। রাজি না হওয়ায় নিলুফা ও তার মামলার স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে সাইফুলের কথিত প্রেমিককে দিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করান সাইফুল। নিলুফার ভাই আসিফ আহমেদ বলেন, মামলা তুলে নিতে সাইফুল প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। সাইফুল নিজের অপকর্ম ঢাকতে বিভিন্ন জায়গায় তাদের বিরুদ্ধে টাকা ও মালামাল চুরির লিখিত অভিযোগ করে হয়রানী করছেন। নিলুফা বলেন, তার সন্তানদেরও কোন খোঁজ খবর নেন না সাইফুল। বর্তমানে দু’সন্তান নিয়ে অসহায় জীবন যাপন করছেন। তিনি বলেন, সাইফুল তার উপর অবর্ননীয় অত্যাচার করেছেন। পুলিশের চাকরী করার কারণে সাইফুল সব সময় নিজেকে ক্ষমতাধর মনে করেন। সে কারণে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি  দেওয়া অব্যাহত রেখেছেন। তিনি সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার দাবী করেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, নিলুফার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তাকে কোন ধরনের নির্যাতন করা হয়নি। নিলুফা সংসার করতে ইচ্ছুক না হওয়ায় যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় তাকে ডিভোর্স দেয়া হয়েছে। নিলুফার পরিবার বিষয়টি মিমাংসা করতে চাইলে তার আপত্তি নেই বলে জানান সাইফুল ইসলাম।

আরো খবর...