দেশে শনাক্ত রোগী ৩ লাখ ছাড়াল

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে।  দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ৪ হাজার ৫৮৩ জন। আর মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৪ হাজার ১২৭ জনে। এই চিত্র উদ্বেগজনক। তবে সুস্থ রোগীর সংখ্যা কম নয়। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৮ জন। বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ২  কোটি ৪৩ লাখের বেশি। মৃতের সংখ্যা ৮ লাখ ৩০ হাজার। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত ৮ মার্চ। আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছিল তিন মাস পর গত ১৮ জুন; তার ঠিক এক মাসে (১৮ জুলাই) ২ লাখ  রোগী শনাক্তের খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর পরের এক লাখ  রোগী শনাক্তে নয় দিন বেশি লাগল। বাংলাদেশে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক দাবি করলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নমুনা পরীক্ষা কম হওয়ায় রোগীও ধরা পড়ছেন কম। ফি নির্ধারণসহ নানা কারণে নমুনা পরীক্ষায় মানুষের নিরুৎসাহিত হওয়ার বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, করোনাভাইরাস মহামারির বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব-ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ছাড়া বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর গতি ধীর হয়েছে। সোমবার রাতে  বৈশ্বিক করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। এতে বোঝা যায়, বাংলাদেশ এখনো করোনার উচ্চ সংক্রমণের মধ্যে রয়েছে। আক্রান্তের দিক থেকে বিশ্বে ১৫তম এবং মৃত্যুর দিক থেকে ২৯তম। দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। দেশের মানুষের মধ্যে করোনাভীতি নেই। মাস্ক ছাড়া যে যার মতো চলছে।  কোথাও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার বালাই নেই। করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণের মধ্যে গণপরিবহণে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। অতিরিক্ত যাত্রী, সহকারী দরজায় দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলা, ¯েপ্র ও মাস্ক ব্যবহার না করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে গণপরিবহণের বিরুদ্ধে। ফলে করোনার ঝুঁকি বেড়েই চলছে। যাত্রীরা বলছেন, প্রথম দিকে নিয়ম  মেনে চললেও এখন স্বাস্থ্যবিধি মোটেও মানা হচ্ছে না গণপরিবহণে। দরজায় হেলপার গায়ে হাত দিয়ে যাত্রী তোলা করোনার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ¯েপ্র তো করাই হয় না। ফলে রাজধানীতে সংক্রমণ বাড়ছে। দেশে মহামারির শুরু থেকেই রাজধানী ঢাকায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেশি ছিল। সারাদেশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীতে আক্রান্তের হার কমতে দেখা যায়। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়গুলো শিথিল হওয়ায় পরিস্থিতি পাল্টে যেতে দেখা যাচ্ছে। গত এক মাসে রাজধানীতে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী  বেড়েছে ৫৬ শতাংশ। এই তথ্য হতাশাজনক। সারা বিশ্বে মহামারি হয়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউনের চেয়েও সবচেয়ে কার্যকর পন্থা হলো মাস্ক ব্যবহার করা। কারণ করোনাভাইরাস মূলত বাতাসে ড্রপলেটস বা মুখ থেকে নিঃসৃত মিহি জলকণার মাধ্যমে ছড়ায়। আর মাস্ক ব্যবহার করলে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায় বলে নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে। দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের দেশের জনগণ মাক্স পরার ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তারা তা মানছে না। সরকারকে এ ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা উচিত। যারা মাক্স না পরে বাইরে বের হবে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আরো খবর...