দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত

কুষ্টিয়ায় দু’বছর পূর্তিতে এসপি এসএম তানভীর আরাফাত

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ রাজনৈতিক উত্তাপ, রয়েছে দলে দলে বিভক্তি। ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াত-বিএনপির উঁকিঝুঁকি তো আছেই। আবার মাঝে মধ্যে ঘটে বিচ্ছিন্ন কিছু খুনের ঘটনাসহ নানা অনাকাঙ্খিত ঘটনা। সর্বোপরি নব্বই দশকে মাথাচাড়া দেয়া চরমপন্থী সংগঠনের অস্তিত্বও ভেসে ওঠে কখনো কখনো। উলে¬খিত শব্দে যেকেউই বুঝবেন দৃশ্যপটটি আসলে কোন এলাকার। হ্যা বলছি কুষ্টিয়ার কথা। সাহিত্য ও সাংস্কৃতির রাজধানীখ্যাত যে জেলার প্রকৃতি এখন অনেকটাই শান্ত। যদিও এসবের নেপথ্যে রাজনৈতিক নেতাদের অবদান থাকলেও বাস্তবায়নে মুল কাজটি করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। যার নেতৃত্বে জেলা পুলিশের অভিভাবক। সাম্প্রতিক সময়ের কথা যদি বলা হয় তাহলে বলতেই হয় কুষ্টিয়ার প্রকৃতি অনেকটাই শান্ত। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নেই, নেই ধারাবাহিক আইনশৃঙ্খলা অবনতির ঘটনা। মাঝে মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের উঁকিঁঝুঁকি বন্ধে সিদ্ধহস্ত পুলিশের। চরমপন্থা পন্থীদের আবাসন এখন জাদুঘরে। এমন পরিস্থিতিতে বাহবা পেতেই পারেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত। তরুন সদালাপি এই পুলিশ সুপার কুষ্টিয়ায় দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই জেলার ২২লাখ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হন। ঘোষণা দেন  মাদকের বিরুদ্ধে জিরোটলারেন্স নীতি। বাস্তবায়নও করেন তিনি। মাদক নির্মূলে সফল এই পুলিশ সুপার হত্যাকান্ডের মোটিভ উদ্ধারেও বেশ পারদর্শী। দু’বছর কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উলে¬খযোগ্য হত্যাকান্ডের ঘটনা না ঘটলেও অধিকাংশ হত্যাকান্ডের মোটিভ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। বিচার বিভাগের সাথে সমন্বয় করে মামলা জট কমাতেও তাঁর ভূমিকা অপরিসীম। এতকিছুর পরও সবার ওপর উঠে আসে তার মানবিকতার অনন্য নজির। বৈশি^ক মহামারি করোনা মোকাবেলায় যখন গোটা দেশ বেসামাল তখন কুষ্টিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর ঘুম হারাম। সব পুলিশ সদস্যকে মাঠে নামিয়ে নিজেও কাটিয়েছেন নির্ঘূম রাত। লক্ষ্য একটাই কুষ্টিয়াবাসীকে করোনামুক্ত রাখতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতাবোধ তৈরী সেই সাথে কীভাবে ঘরবন্দি বেকার মানুষের মুখে আহার তুলে দেয়া যায় সেই চিন্তাও যেন তাঁর মাথায়। শেষ মেষ সফলও হয়েছেন তিনি। করোনা নিয়ন্ত্রনের পাশাপাশি প্রতিদিন অসংখ্য অসহায় মানুষের মুখে আহারের ব্যবস্থা করেন। মাঠে নামিয়েছেন স্ত্রী সন্তানদেরও। পরিবারের রান্না খাবারও তুলে দেন অসহায় মানুষের মুখে। এমন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তার কর্মকান্ডে অবাক কুষ্টিয়ার ২২লাখ মানুষ। পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাতের এমন মানবিকতায় অনেক জেলায় অনুসরন করে মানবকল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়েন পুলিশ সদস্যরা। কুষ্টিয়ার এই আদর্শবান মানবিক পুলিশ সুপারের এমন কর্মকান্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরা অত্যন্ত কঠিন। এতদ্বসত্বেও দু’বছরের কিছু উলে¬খযোগ্য সাফল্যের কিছু বিষয় তুলে ধরার প্রয়াসমাত্র। মঙ্গলবার তিনি কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার হিসেবে দু’বছর পুর্ণ করেন। ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর যোগদান করেন তিনি। অত্যন্ত মেধাবী এই পুলিশ সুপার ২২তম বিসিএস’এ প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পান। সাফল্য ব্যর্থতার হিসেব নিকেষ কষতে অপছন্দ এসএম তানভীর আরাফাতের। তবে তাঁর ছোট বেলা থেকেই পুলিশ কর্মকর্তা হবার ভিষণ ছিল।

এ বিষয়ে এসএম তানভীর আরাফাত বলেন পুলিশে যোগদানের উদ্দেশ্য একটাই তা হচ্ছে দেশের জন্য কিছু করা। যেদেশ আমাকে লাল সবুজের পতাকা দিয়েছে সেই দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কিছু করাই আমার লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই পুলিশে যোগদান। জীবন দিয়ে হলেও লাল সবুজের পতাকার সম্মান অক্ষুন্ন রাখার চেষ্টা করব। এজন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ হাসিমুখে মেনে নিবো।

দু’বছরের দায়িত্ব পালনকালে তাঁর অনুভূতিও বেশ আবেগঘন। খুলনাতে জন্ম হলেও এই ডিভিশনের সন্তান হিসেবে কুষ্টিয়াতে চাকুরী করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেন তিনি। কারন এই জেলার মাটি ও মানুষের গন্ধ তাঁকে বিমোহিত করে। মানুষের ভাষা, মানুষের কৃষ্টি কালচার সব কিছুই যেন অনুকুলে। আর তাইতো কুষ্টিয়ার প্রতি ভালোবাসাটাও একটু বেশিই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব শ্রেণিপেশার মানুষের সহায়তা তাঁকে কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুনে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা, জনপ্রতিনিধিদের ইতিবাচক মনোভাব সর্বোপরী জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা এবং ভূমিকা তাঁর কাছে অনেক প্রেরণার। আর তাঁইতো অনেক কঠিন কাজ সহজেই সম্পাদন করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে। যদিও এই দু’বছর অনেক সাফল্যগাঁথা হলেও তার সবটুকুই তিনি কুষ্টিয়াবাসীকে উৎসর্গ করতে চান। আর ব্যর্থতার ভারটা নিজের কাঁধেই তুলে নিতে চান। বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ সব পদকপ্রাপ্ত এই পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যাশা যে সময়টুকু তিনি কুষ্টিয়াতে দায়িত্ব পালন করবেন তা যেন কুষ্টিয়ার মাটি ও মানুষের কল্যাণে হয় সেটিই তাঁর প্রত্যাশা।

 

আরো খবর...