দু:সময়ের কান্ডারী রেজাউল হক পেলেন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব  

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগে চমক

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের পর এবার অনুষ্ঠিত হলো সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। গতকাল উপজেলার বালিয়াপাড়া কলেজ মাঠে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় সম্মেলন। শহর আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত নেতৃত্বের স্বীকৃতি দেয়া হলেও চমক আসে সদর উপজেলা সম্মেলনে। প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা বিশিষ্ট আইনজীবি অ্যাড. আসম আখতারুজ্জামান মাসুম স্বপদে বহাল থাকলেও সাধারণ সম্পাদক পদে আসে চমক। দায়িত্ব পান সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল হক। তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন এমনটি কস্মিনকালেও ভাবেননি অনেকেই। কারন এক ডজন প্রার্থি। তার মধ্যে রয়েছেন অনেক পরিচিত মুখ। তার মানে এই নয়, রেজাউল অযোগ্য কিংবা জনপ্রিয় নন। ছাত্র রাজনীতি থেকে যুবলীগের রাজনীতি। সেখানে টানা ১০বছর থেকেছেন সদর থানা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্বে। সেই ২০০৩ সাল থেকে ২০১৩ সাল।  দীর্ঘ ১০ বছর দায়িত্বে থেকে যুবলীগকে করেছিলেন সমৃদ্ধ। তাঁর আগে বা পরে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে নির্যাতিত হন তিনি। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার অত:পর কারাবরণ করেন  অসংখ্যবার। সামগ্রিক দিক বিবেচনায় তিনি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন এমনটি প্রত্যাশা থাকলেও এই সম্মেলনে যে তাকে সাধার সম্পাদক হিসেবে গুরু দায়িত্ব দেয়া হবে তা ভাবেননি অনেকেই। তবে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান হয় যখন মঞ্চে ঘোষণা করা হয় তাঁর নাম। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম কামাল যখন তাঁর নাম ঘোষণা করেন তখন চমকে ওঠেন সামনের সারির তৃনমুলের বিপুল কর্মী বাহিনী। অবাক হন মঞ্চে থাকা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দও। তবে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণায় আক্ষেপ কিংবা কষ্ট পাননি কেউই। বরং যোগ্য স্বীকৃতি দেয়ায় খুঁশি হন সবাই। আর এই ঘোষণার মধ্যে প্রমাণ হলো অনুপ্রবেশকারী কিংবা বিতর্কিত কাউকে আওয়ামী লীগে ঠাঁই নেই। যোগ্যতার ভিত্তিতে দেয়া হয় কমিটি। যার নেতৃত্বে আসেন বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের মালিক অ্যাড. আসম আখতারুজ্জামান মাসুম ও রেজাউল হক। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় পুরো কৃতিত্ব দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩(সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফকে। সেই সাথে তাঁরই অনুজ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাকেও ভুলেননি তিনি। স্থানীয় রাজনীতিতে তাদেরকে আদর্শ মানেন তিনি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জেলা আওয়ামী লীগের সকল নেতৃবৃন্দের প্রতি। তাঁদের চুলচেরা বিশ্লেষণে আমাকে যোগ্য মনে করে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন।

একনজরে রেজাউলের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার

১৯৬৭ সালে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জগতি হাটপাড়া এলাকায় এক মধ্যবিত্ত আওয়ামী পরিবারে জন্মগ্রহন করেন রেজাউল হক। বাবা মৃত আজীজুল হক ছিলেন এলাকার জনপ্রিয় মানুষ। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে রেজাউল হক সবার বড়। স্কুল জীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মেনে আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত হন তিনি। ৮৬-৮৭ সালে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয় হন। ইউনিয়ন ও সদর উপজেলা ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর যখন আওয়ামী লীগের নাম মুখে নেয়ার পরিস্থিতি ছিলনা তখন ছোট্ট যুবক এই রেজাউল জয়বাংলা শ্লোগানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে আওয়ামী রাজনীতি করে গেছেন। বিএনপি-জামায়াত জোট রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর দেশে যখন গণতন্ত্রের নামে লুটপাটের রাজনীতিতে ভরপুর, উন্নয়নের নামে দলের মন্ত্রী এমপি নেতাকর্মীদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেছে তাখন মানুষের অধিকার রক্ষায় ছোট্ট কর্মী হিসেবে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছেন। যদিও এজন্য কারাবরণ করতে হয় অসংখ্যবার। ছাত্র রাজনীতি ছেড়ে ঝুঁকে পড়েন যুবলীগের রাজনীতিতে। স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেয়া রেজাউল হক আওয়ামী লীগের সিনিয়ন নেতৃবৃন্দের নজরে পড়েন। দায়িত্ব পান সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতির। ২০০৩ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সংগঠনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। এর আগে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে টানা দু’বার দায়িত্ব পালন করেন। এরই মাঝে ক্ষমতার স্বাদ পেলেও নিজের নীতি আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হননি। লোভ লালসা উপেক্ষা করে নিষ্ঠা ও সততার সাথে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে চালিয়ে যান রাজনীতি। ২০১৩ থেকে কোন পদে না থাকলেও সংগঠনের পেছনে বড় একটি সময় ব্যয় করেন তিনি। যার ফল তিনি আজ পেয়েছেন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন তিনি। এজন্য তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩(সদর) আসনের সংসদ সদস্য, কুষ্টিয়ার উন্নয়নের রূপকার মাহবুবউল আলম হানিফ ও তাঁরই অনুজ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার প্রতি কৃতজ্ঞ প্রকাশ করেন। রেজাউল হক বলেন জননেত্রী  শেখ হাসিনা যখন দলে ফ্রেশ ইমেজের নেতৃত্ব সম্মেলনের মাধ্যমে বেছে নেয়ার নির্দেশ দেন তখন সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে তাঁরই আস্থাভাজন নেতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ আমাকে যোগ্য হিসেবে বেছে নেন। এজন্য তিনি আবারও মাহবুবউল আলম হানিফের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেই সাথে আগামীতে যেন মাহবুবউল আলম হানিফের সাহচার্যে থেকে দলকে সাংগঠনিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি এজন্য সকলের দোয়া ও সহায়তা কামনা করেন।

আরো খবর...