দি ওল্ড কুষ্টিয়া হাইস্কুলে শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়নে জালিয়াতির অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে শোকজ

জেলাশিক্ষা অফিসার বললেন জবাব না মিললে ব্যবস্থা

নিজ সংবাদ ॥ প্রতিটি স্কুলে একজন করে শিক্ষক প্রতিনিধি থাকেন। আর ওই শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়নে সুপারিশ করে থাকেন জেলা শিক্ষা অফিসার। স্কুল কর্তৃপক্ষের দেয়া নামের তালিকা যাচাই বাছাই করেই অপেক্ষাকৃত যোগ্য শিক্ষকের নাম কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পাঠানো হয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ডে। সেখান থেকে যে নামটি আসবে সেটিই চুড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়নে এমন নিয়ম মানা হলেও কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিওল্ড কুষ্টিয়া হাইস্কুলে মানা হয়নি সেই নিয়ম। গত ২০ মার্চ জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান স্বক্ষরিত ৩৭.১০.৫০০০.০০০.০৬.২০-১১০১ স্মারকে এডহক কমিটিতে জেলা শিক্ষা অফিসার অপেক্ষাকৃত যোগ্য শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মামুনর রশিদের নাম উলেক্ষখ করে তা যশোর শিক্ষাবোর্ডে পাঠানো হলেও সেখানে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে নাম পাল্টে পাঠানো হয় মতিয়ার রহমান নামে অন্য এক সহকারী শিক্ষকের নাম। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে জেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখিত শিক্ষক মামুনর রশিদের নামের ওপর কাগজ মেরে সেখানে মতিয়ার রহমান নামে অন্য এক শিক্ষকের নাম লিখে তা বোর্ডে পাঠান স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম আযম। বিষয়টি জানাজানি হলে গোটা হরিপুর ইউনিয়ন জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী এমনকি সুধী মহল। এনিয়ে বিক্ষোভ মিছিল পর্যন্ত হয় এলাকায়। স্কুলের প্রধান শিক্ষককে দায়ি করে তাঁর কঠোর শাস্তি দাবী করেন বিক্ষোভকারীরা। এদিকে এমন জালিয়াতির ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রোববার স্কুলে ছুটে যান জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান। কেন শিক্ষা অফিস প্রেরিত নাম পাল্টে অন্য শিক্ষকের নাম পাঠানো হলো তার ব্যাখ্যা চান তিনি। অবশ্য কারন দর্শানো নোটিশও দেন জেলা শিক্ষা অফিসার। এবিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার জানান এডহক কমিটিতে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়নকৃত নাম পাল্টে দেয়ার ঘটনা আমার গোচরে আসার পর আমি নিজেই স্কুলে যায়। মামুনর রশিদের পরিবর্তে মতিয়ার রহমানের নাম কেন আসলো এমন ব্যাখ্যাও চাওয়া হয় প্রধান শিক্ষক গোলাম আযমের কাছে। এবিষয়ে কারন দর্শানো নোটিশও প্রদান করেছি। সঠিক জবাব পাওয়া না গেলে অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। বিদ্যালয়ের অভিভাবক জহুরুল ইসলাম জানান দিওল্ড কুষ্টিয়া হাইস্কুল আমাদের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের যথেষ্ট সুখ্যাতি রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়নে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন। এতে আমরা মর্মাহত হয়েছি। আমরা প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্ত দাবী করেছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবক সেলিম উদ্দিন জানান নানা কারনে এতদ্বাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে। নতুন করে যুক্ত হয়েছে জালিয়াতির ঘটনা। শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়ন নিয়ে যে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে তা দু:খজনক। এর দায় এড়াতে পারেন না প্রধান শিক্ষক। অবশ্য এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম আযম নিজেকে নির্দোষ দাবী করেন। বলেন জালিয়াতির বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। এদিকে বিদ্যালয়কে ঘিরে এতসব অনিয়মের হোতা হিসেবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম আযমকেই দায়ি করছেন সকলে। তাদের মতে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতেই নিজের পছন্দের শিক্ষকদের বিভিন্ন পদে পদায়নের পাঁয়তারা করছেন। যা বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করেন তারা।

আরো খবর...