দিল্লি সব প্রাইমারি স্কুল বন্ধ

ভারতে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ৩০

ঢাকা অফিস ॥ ভারতেও এবার লাফিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত তিনদিনেই আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ জনে। শিশুদের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে দিল্লির সব প্রাথমিক স্কুল ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতে একটি ইতালীয় পর্যটক দলের ১৬ জন এবং তাদের সঙ্গে থাকা এক ভারতীয় গাড়িচালকসহ আগরার ছয় জন, দিল্লি-হায়দরাবাদে দুইজন, তারও আগে কেরালার তিনজন এবং সর্বশেষ দিল্লির আরো একজন ও গুরগাঁওয়ে একজনের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৩০। ইতালির পর্যটকরা একাধিক রাজ্যের বহু জায়গায় ঘুরেছেন। এ থেকে করোনা সংক্রমণ আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই পর্যটকরা যাদের সংস্পর্শে এসেছেন তাদের নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না চিকিৎসকরা। দলটির সঙ্গে থাকা এক ট্যুর গাইডও আক্রান্ত হয়েছেন। তাই এমন আশঙ্কা থেকে অন্তত ১০০ জনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা। ভারতে ভাইরাস সংক্রমণ যাতে মহামারীতে রূপ না নেয় সেজন্য স্কুল থেকে বিমানবন্দর, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে পণ্য পরিবহণ প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরদারির পাশাপাশি সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী তথা শিক্ষামন্ত্রী মনিশ শিশোদিয়া বলেছেন, “সতর্কমূলক ব্যবস্থা হিসাবে কোভিড-১৯ যাতে শিশুদের মধ্যে না ছড়াতে পারে সেজন্য অবিলম্বে সব প্রাথমিক স্কুল (সরকারি স্কুল, সরকারি অনুদানে চলা স্কুল, বেসরকারি, দিল্লি পৌর করপোরেশন পরিচালিত ‘এমসিডি’, ও পৌর কাউন্সিল ‘এনডিএমসি’ পরিচালিত স্কুল) বন্ধ রাখা হচ্ছে।”

প্রতিষেধক না থাকায় জোর দেওয়া হচ্ছে সচেতনতা তৈরিতে: করোনাভাইরাসের টিকা এখনও আবিষ্কার না হওয়ায় এটি মোকাবেলায় সচেতনতাই একমাত্র হাতিয়ার বলে মনে করছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর। জ্বর-সর্দি-কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা করাতে বলা হচ্ছে। দু’টি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে। করোনাভাইরাস নিয়ে কারও প্রশ্ন থাকলে ওই নম্বরে ফোন করলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাওয়া যাবে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার মতো আশঙ্কা কারও ক্ষেত্রে তৈরি হলে তাকে ১৪ দিন হোম আইসোলেশনে থাকতে হবে। কেউ জ্বর-সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হলে তার থেকে ন্যূনতম ১ মিটার দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কারও সংস্পর্শে আসার পর ২৮ দিন পর্যন্ত নিজের স্বাস্থ্যের উপরে নজর রাখারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সীমান্তে নজরদারি:

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করেছে ভারত। বিশেষ করে বাংলাদেশ এবং নেপাল সীমান্ত দিয়ে প্রতি দিনই বহু মানুষ সড়কপথে যাতায়াত করে। এসব এলাকায় স্বাস্থ্য শিবির বানিয়ে সবার শারীরিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-কেও নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। নেপালের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোর পঞ্চায়েতকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। স্পর্শকাতর পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নজরদারির জন্য নতুন করে চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে। আঞ্চলিক ভাষায় পর্যাপ্তসংখ্যক প্রচারপত্র বিলি, ফেস্টুন ও ব্যানার লাগানোর উপরও জোর দেওয়ার নির্দেশ আছে।

বিমানবন্দরে নজরদারি:

কলকাতা বিমানবন্দর দিয়ে চীন-সহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা যাতায়াত করার কারণে সেখানে করোনাভাইরাস সংক্রামিত সন্দেহে যাত্রীদের শারীরিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।  তাদের ভিসা এবং পাসপোর্ট পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে তারা কোথায় কতদিন ছিলেন। চীন হয়ে অন্য কোনও দেশ ঘুরে কেউ ভারতে প্রবেশ করেছে কি না অথবা জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে বিমানে উঠেছে কি না সে সবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্কুলে সচেতনতা:

সচেতনতার প্রচার থেকে বাদ যাচ্ছে না স্কুলও। শহর থেকে গ্রাম সব স্কুলেই নোভেল করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতন করতে প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা দফতর। নির্দেশিকা জারি করে বলা হচ্ছে, ‘‘চীন থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন দেশে। কোনও টিকা আবিষ্কার হয়নি। ফলে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’’

বন্দরে সতর্কতা:

পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে জলপথ অন্যতম। চীন-সহ বিভিন্ন দেশের বহু জাহাজে পণ্য বন্দরে ঢোকায় বন্দরগুলোতে সতর্কামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিদেশি জাহাজ পর্যবেক্ষেণ ও বন্দরের কর্মীদের শারীরিক পরীক্ষার জন্য বিশেষ টীম তৈরি করা হয়েছে।

 

আরো খবর...