দিল্লিতে সহিংসতা চলছেই, নিহত বেড়ে ৩৪

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের’ আহ্বান সত্ত্বেও থামেনি দিল্লির দাঙ্গা, উত্তরপূর্ব দিল্লির পরিস্থিতি আগের মতোই উত্তেজনায় টান টান হয়ে আছে। টানা চার দিন ধরে দাঙ্গার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা দুইশ ছাড়িয়ে গেছে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে। এ দিন গগন বিহার-জোহরিপুর এলাকার একটি ড্রেন থেকে দুটি লাশ পাওয়ার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়ায়। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফর চলাকালেই রাজধানী দিল্লিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) সমর্থক ও বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি মিছিল থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার রূপ নেয়। বুধবার রাতেও মুসলিম অধ্যুষিত উত্তরপূর্ব দিল্লির ভজনপুরা, মৌজপুর ও কারাওয়াল নগরে অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল উত্তরপূর্ব দিল্লির সহিংসতা কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে ‘সরকার শান্তি ফিরিয়ে আনবে’, ব্যক্তিগতভাবে এমন আশ্বাস দিয়ে গেলেও শান্তি ফিরে আসেনি। দাঙ্গা শুরু হওয়ার তিন দিন পর চতুর্থ দিন প্রথমবারের মতো এক বিবৃতিতে ‘শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের’ ডাক দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোদী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে একের পর এক রিভিউ মিটিং করে গেলেও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে দাবি করে দিল্লি পুলিশ ১৮ মামলা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ১৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে। দাঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ দিল্লি হাইকোর্ট পুলিশকে ঘৃণা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে বলেছে। চার বিজেপি নেতার বক্ততৃার ভিডিও দেখার পর আদালত এমন নির্দেশনা দেয়। ওই বিজেপি নেতাদের মধ্যে কেন্দ্রের মোদীর সরকারের মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর ও স্থানীয় নেতা কপিল মিশ্রও আছেন। রোববার বিকালে এই কপিল মিশ্রের সমাবেশ থেকেই সহিংসতা শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। দাঙ্গা থামিয়ে দিল্লিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা উপদেষ্টা অভিত দোভালকে। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি দ্বিতীয়বারের মতো নগরীর দাঙ্গা কবলিত এলাকাগুলোতে যান। দাঙ্গায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি জাফরাবাদ এলাকায় পুলিশের গাড়িবহর নিয়ে হাঁটার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ইনশাল্লাহ, এখানে শান্তি ফিরে আসবে।” এর কিছুক্ষণের মধ্যেই এক তরুণী এসে তার সামনে দাঁড়িয়ে সাহায্যের জন্য করুণ আর্তি জানান। দাঙ্গাকারীদের সবাইকে ধরা হবে বলে তিনি তরুণীকে আশ্বাস দেন। বুধবার দিল্লির বিধানসভায় দেওয়া এক বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, “সহিংসতায় হিন্দু বা মুসলিম, কারো লাভ হবে না। দিল্লির সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে: লোকজন সবাই মিলেমিশে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারে অথবা তারা একে অপরকে আঘাত করে হত্যা করতে পারে।” এই সহিংসতার জন্য বহিরাগত ও রাজনৈতিক উস্কানিকে দায়ী করেন তিনি। এর আগে দাঙ্গা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী নামানোর দাবি জানিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু অমিত শাহের দায়িত্বে থাকা ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার দাবি প্রত্যাখ্যান করে। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে শাহর পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সোনিয়া দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালেরও সমালোচনা করেছেন। রোববার সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লির সরকার উভয়েই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

আরো খবর...