দিনের পরীক্ষা রাতে দিল রিকি

কুষ্টিয়ায় এসএসসি পরীক্ষা

নিজ সংবাদ ॥ শনিবার সকাল দশটা থেকে শুরু হয় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। প্রথম দিনে ছিল বাংলা প্রথম পত্র। সব পরীক্ষার্থী সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত টানা পরীক্ষা দেয়। তবে ব্যাতিক্রম ছিল শুধুমাত্র রিকি হাওলাদার। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের এ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা শুরু হয় সন্ধ্যা ৬ থেকে। শেষ হয় রাত নয়টায়।

রিকি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পারফেক্ট ইংলিশ ভার্সন স্কুলের এসএসসি বিজ্ঞান বিভাগের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তার রোল নম্বরঃ ১১১৩৫২, রেজি নংঃ ১৫১৩৬০৪৫২২। কুমারখালী এমএন হাইস্কুল কেন্দ্রে সে পরীক্ষা দিচ্ছে।

অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের মতো কুষ্টিয়ার খ্রিষ্টান ধর্মাবলী ‘সেভেন্থ ডে এডভান্টিস্ট’ সম্প্রদায়ের পরীক্ষার্থী রিকি হালদারও পরীক্ষা দিতে আসে সকাল ৯টার দিকে। যথারীতি সকাল দশটায় অন্য পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলেও রিকি অপেক্ষায় থাকে সন্ধ্যা ৬টার। বেলা ১টার সময় বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষা দিয়ে অন্য পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্র থেকে বের হয়ে গেলেও কেন্দ্রে অবস্থান করতে থাকে রিকি। তার পরীক্ষা হয় সন্ধ্যা ৬টায়। দুপুরে রিকি কেন্দ্রে খাওয়া-দাওয়া করেন। বাড়ি থেকে সাথে করে খাবার নিয়ে যান তিনি।

ধর্মীয় বিধানে শনিবার কোন প্রকার লেখালেখি করা যাবে না এমন নিষেধাজ্ঞা থাকায় শনিবার সকালের পরীক্ষার পরীবর্তে সূর্যাস্থের পর পরীক্ষা দেওয়ার জন্য যশোর শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করে রিকি হালদার। যশোর শিক্ষা বোর্ড সেটার অনুমতি দিয়ে ২, ৯, ১৬ ও ২৩ ফেব্র“য়ারি শনিবারের বাংলা প্রথম পত্র, গণিত, রসায়ন ও উচ্চতর গণিত পরীক্ষা দিনের পরিবর্তে সূর্যাস্থের পর দেওয়ার অনুমতি দেন রিকিকে।

রিকি হালদার জানান, ধর্মীয় বাধার কারনে শনিবারের পরীক্ষাটা সকাল ১০টার পরিবর্তে সূর্যাস্থের পর সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয়।  ‘সেভেন্থ ডে এডভান্টিস্ট’ সম্প্রদায়ের যারা শিক্ষার্থী আছেন তারা একই পন্থায় পরীক্ষায় দিচ্ছেন। শনিবার ধর্মীয় উপাসনা থাকে। এদিন পড়াশোনা, লেখালেখি,  খেলাধুলা, কেনাকাটাসহ সকল প্রকার কাজ থেকে বিরত থাকতে হয়। সম্প্রদায়ের সকলেই এই রীতি মেনেই পরীক্ষা দেয়। তিনি আরও বলেন,‘আমাকে এই সুযোগটা দেওয়ার জন্য যশোর শিক্ষা বোর্ডকে ধন্যবাদ দিতে চাই।’ রাতে কুমারখালী এমএন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব ফিরোজ মহম্মদ বাশার বলেন, ৩০ জানুয়ারি পাঠানো যশোর শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে রিকির পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। রিকি সবার মতোই সকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছে। সকলে পরীক্ষা দিয়ে সবাই চলে গেলেও রিকিকে কেন্দ্রের আলাদা কক্ষে রাখা হয়। সে সারাদিন কক্ষ থেকে বের হতে পারেনি। খাওয়া-দাওয়াসহ সব কিছু সে ওই কক্ষে বসেই করবে। সন্ধ্যা ছয়টায় তার পরীক্ষা শুরু হয়েছে। রাত ৯টায় শেষ হয়। রিকির বাবা রিপন হালদার বলেন, বেসরকারি সংস্থায় চাকুরির সুবাদে তারা কুমারখালীতে বসবাস করেন। বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলায় তাদের বাড়ি। তিনিও রাতে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তাদের মতের অনুসারীর সংখ্যা খুবই কম। ঢাকাতেও এ ধরনের পরীক্ষার্থী আছে।

আরো খবর...