দায়িত্বশীলতার বিকল্প নেই

বৈশ্বিক মহামারীর সময়ে নিজেকে বাঁচাতে সচেষ্ট থাকলে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে সমাজের ওপর, এতে কোন সন্দেহ নেই।  সে কারণেই সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেছেন, সবাই সুরক্ষিত না হলে কেউই নিরাপদ নয়। কথাটির অন্য অর্থ হলো নিজে সুরক্ষিত থাকলেই অন্যেও সুরক্ষা পাবে। ছাব্বিশে মার্চ থেকে সরকার ঘরে অবস্থানের জন্য যে বিশেষ ছুটি ঘোষণা করেছিল তা দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে জনস্বার্থেই। ১৬ মে পর্যন্ত সেই ছুটি বলবতও রয়েছে। তবু বিশেষ বিবেচনায় সীমিত আকারে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রথমে বেশ কিছু গার্মেন্টস কারখানা পরে শপিংমলসহ দোকানপাট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত এসেছে। সামনে ঈদ। দীর্ঘদিন লকডাউন হয়ে থাকা মানুষের সামনে ঈদ এসেছে। ঈদের আনন্দ কিছুটা হলেও উপভোগ করার জন্য নাগরিকদের প্রয়োজনের দিকে লক্ষ্য রেখেই সীমিত পরিসরে  দোকানপাট খোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে ঘরে অবস্থান করার কারণে জনসাধারণের ভেতর করোনাজনিত স্বাস্থ্যসচেতনতা আসা প্রত্যাশিত। করোনাভাইরাস  থেকে নিজেকে সুরক্ষার জন্য কী কী করা উচিত তা এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া শিশুটিও জানে। তাই ঈদের বাজার করার জন্য নিজের সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য কি করণীয় তা অজানা নয়। মাস্ক পরা শিখে গেছে মানুষ, এতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। অপরদিকে অনেকেই এখন হাতে দস্তানা পরেন। বড় বড় দোকান ও ফার্মেসিতে ঢোকার আগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করার চল গড়ে উঠেছে। সচেতন ও সতর্ক মানুষ একে অপরের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনেই। এমন একটি বাস্তবতায়ও ঈদের বাজার করতে যাওয়ার ভেতর যে কিছুটা ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে তা একেবারে অস্বীকার করা যাবে না। এর পেছনে কিছু কারণও রয়েছে। রাজধানীর বেশির ভাগ মার্কেটে করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার সক্ষমতা আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। ছোট ছোট দোকানের কারণে সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাও কতটা সম্ভব হবে সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যদি ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষই কড়াকড়িভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্ভব হয় তাহলে এই করোনাকালে অর্থনীতির চাকা যেমন সচল থাকবে, তেমনি ঘরবন্দী মানুষের মনের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে সেটিও জানালা খুঁজে পাবে। তবে এর সবটাই নির্ভর করছে সবার দায়িত্বশীলতার ওপর। শতভাগ দায়িত্বশীল হলেই কেবল সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত থেকে সুফল পাওয়া সম্ভব। ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতি স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলার আশ্বাস দিয়েছে। করোনা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যা যা করা প্রয়োজন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে তার সবই করা হবে।  দোকান মালিকদের নিয়ে ৬১ সদস্যের গঠিত টাস্কফোর্স মার্কেটে মার্কেটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সচেতনতায় কাজ করবে। প্রসঙ্গত, ধর্ম মন্ত্রণালয় মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা ও তারাবির জামাত সীমিত আকারে আদায়ের জন্য যে নির্দেশনা জারি করেছিল তাতে পরিবর্তন এসেছে। কয়েকটি সুনির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে সুস্থ মুসলিমদের মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে প্রতিটি মসজিদের বাইরের দেয়ালে সেটি টাঙিয়ে দেয়া অত্যাবশ্যক। একইভাবে মসজিদের পক্ষ থেকেও স্বেচ্ছাসেবী থাকা দরকার যারা কড়াকড়িভাবে লক্ষ্য করবেন যে ঘোষিত নির্দেশনাগুলো শতভাগ অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা। তাহলেই ঝুঁকি কমবে। ঘরে ও বাইরে সার্বিকভাবে নাগরিকদের কাছ থেকে দায়িত্বশীলতাই প্রত্যাশিত। মনে রাখা চাই দায়িত্বশীল আচরণ ও ব্যবস্থা গ্রহণ নিজেকে যেমন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেবে, তেমনি সমাজও তা থেকে উপকৃত হবে।

আরো খবর...