দক্ষ চালকরাই পারবে দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে

কুষ্টিয়ায় পেশাজীবী গাড়ী চালকদের কর্মশালায় বক্তারা

আরিফ মেহমুদ ॥ দুর্ঘটনার জন্য অন্যকে দোষারোপ করে লাভ নেই। গাড়ী চালানোর সময় সবার আগে একজন চালককেই সচেতন এবং সতর্ক হতে হবে। ড্রাইভিং সীটে বসে  জীবনের ঝুঁকি নিবেন না। চালকের সামান্য ভুলের জন্য বড় ধরনের মারাত্বক দুর্ঘটনা ঘটে অনেকগুলো জীবনহানী হতে পারে। আর এই দুর্ঘটনায় নিমিষেই সব শেষ। একটি পরিবারের স্বপ্ন ঘেরা সংসারে নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার। অসহায় হয়ে পড়ে পরিবারের উপার্জনকারী ব্যক্তিটিকে হারিয়ে। এটি যে শুধু যাত্রীদের পরিবারের ক্ষেত্রে ঘটে তা কিন্তু নয়। ওই দুর্ঘটনায় গাড়ী চালকও নিহত হন। এক্ষেত্রে আপনাদের পরিবারটিও এতিম হয়ে যেতে পারে। দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নিজেকে একজন প্রশিক্ষিত দক্ষ চালক হতে হবে। দক্ষ চালকরাই পারবে দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে। গতকাল শনিবার কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং বিআরটিএ কুষ্টিয়া সার্কেলের আয়োজনে কুষ্টিয়া স্টেডিয়াম মিলনায়তনে পেশাজীবী গাড়ী চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমুলক দিনব্যাপী কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা আরো বলেন, “সাবধানে গাড়ি চালান, জীবন ও সম্পদ বাঁচান”। মনে রাখবেন সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। ড্রাইভিং করাকালীন সময়ে আপনার সতর্কতা ও দক্ষতা কমে যাবে দুর্ঘটনা, বেঁচে যাবে অনেক জীবন। কারন এর সাথে জড়িয়ে আছে পরিবারের অনেক স্বপ্ন। যাত্রীদের কাছে আপনি শুধু একজন চালক না হয়ে আস্থা ও ভরসার প্রতীক হয়ে উঠুন। বহির্বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে আমাদের দেশে যাত্রী সেবার মান, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সড়ক নিরাপত্তা অনেক বেশি। তারপরও চালকদের সাহস আর অতিরিক্ত মনোবলের কারনে প্রায়ই ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনার মত ঘটনা। অকাতরে ঝরছে প্রাণ। এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

বক্তারা বলেন, রাস্তার বাঁক, সরুব্রীজ ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকায় গাড়ীর গতি বেশি থাকায়, ট্রাফিক আইন, রোড সাইন মেনে না চলায় এবং সর্বপরী চালকের কানে হেড ফোন ও মোবাইলে কথা বলার কারনে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। বক্তারা চালক ভাইদের প্রতি আহবান রেখে বলেন- আসুন  দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে গাড়ী চালানোর সময় আমরা সবাই সচেতন এবং সতর্ক হই। এক সাথে স্লোগান তুলি “সাবধানে গাড়ী চালান, জীবন ও সম্পদ বাঁচান”। কর্মশালায় সভাপতিত্ব ও যন্ত্রাংশ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)’র কুষ্টিয়া সার্কেলের মটরযান পরিদর্শক ওমর ফারুক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ফখরুল আলম ও কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ রাকিবুল হাসান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিআরটিএ কুষ্টিয়া সার্কেলের রাজস্ব কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেস হোসেন, দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সিনিয়র ষ্টাফ রিপোটার ও দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি এ.এইচ.এম.আরিফ, দৈনিক জনতার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি শরীফ মাহমুদ, ট্রাক ও লরি  শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ইউসুফ আলী প্রমুখ। “সাবধানে গাড়ি চালান, জীবন ও সম্পদ বাঁচান” এই শ্লোগানকে বাস্তবায়নে গাড়ী চালকদের অংশগ্রহনে ষ্টেডিয়াম থেকে সকালে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক প্রদক্ষিন শেষে কর্মশালায় যোগদেন। মুল অনুষ্ঠানকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে কর্মশালা সম্পন্ন করা হয়। প্রথমে র‌্যালী আলোচনা সভা এবং পরে পেশাজীবী গাড়ী চালকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। গাড়ী চালকবৃন্দ ট্রাফিক আইন, রোড সাইন মেনে না চলা এবং চালকের কানে হেড ফোন ও গাড়ী চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা না বলা এই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গাড়ী চালানোর সময় চালকরা মোবাইল ফোনে কথা বলবে না বলে অঙ্গীকার করেন। কর্মশালায় ১৫০ জন পেশাজীবী সহ বিভিন্ন সময় বিআরটিএ কুষ্টিয়া সার্কেল প্রায় ৬শত জন চালককে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।

আরো খবর...