তাহলে তো পল্টনের হামলায় আ. লীগও দায়ী – রিজভী

ঢাকা অফিস \ বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় তার দলকে জড়ানো হলে পল্টনে সিপিবির সমাবেশে হামলার জন্যও তখনকার আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ী করতে হয়।  প্রায় দুই দশক আগে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার রায়ের পরদিন ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা রিজভীর এমন মন্তব্য আসে।  তিনি বলেন, “যদি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপি নেতারা দায়ী হয়ে থাকেন, সরকারের লোকজন দায়ী হয়ে থাকেন, তাহলে সিপিবির জনসভায় যে হামলা, সেখানে শেখ হাসিনা (তখনকার প্রধানমন্ত্রী) দায়ী নন কেন? সেই সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী নন কেন? পুলিশের যারা কর্মকর্তা ছিলেন তারা দায়ী নন কেন?” ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির লাল পতাকা সমাবেশে বোমা হামলায় পাঁচজন নিহত হন। সে সময় ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ ১৯ বছর পর সোমবার সেই মামলার রায়ে হরকাতুল জিহাদের (হুজি) ১০ জঙ্গির ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত। ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম তার রায়ের পর্যক্ষেণে বলেন, সিপিবিকে নিশ্চিহ্ন করতে এবং তখনকার আওয়ামী লীগ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই ওই হামলা চালায় জঙ্গিরা। আর ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে যখন ২৪ জনকে হত্যা করা হল, তখন ক্ষমতায় বিএনপি। চৌদ্দ বছর পর ২০১৮ সালের অক্টোবরে এ মামলার রায়ে সেই বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদন্ড দেয় আদালত। আর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদন্ড। এছাড়া ওই মামলার আসামি ১১ পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাকেও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেন ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায়’ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের ওই হামলা ছিল আওয়ামী লীগকে ‘নেতৃত্বশূন্য করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা’। ওই রায়ের সঙ্গে সিপিবির সমাবেশে হামলার রায়কে মিলিয়ে রিজভী বলেন, “২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যদি বিএনপি নেতৃবৃন্দ জড়িত হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের আমলে সিপিবির সমাবেশে হামলা মামলায় আওয়ামী লীগও জড়িত, আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী এর দায় এড়াতে পারেন না।” চট্টগ্রামের লালদীঘিতে আওয়ামী লীগের জনসভায় হামলার রায়ের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “যে ৫ জন পুলিশের ফাঁসির আদেশ হয়েছে গতকালকে ওই মামলার জন্য এরশাদ ও তার সরকার দায়ী, কারণ ওই গুলির ঘটনা তো পুলিশ করেছে। এরশাদসহ তার সরকার সেখানে দায় এড়াতে পারে না।” বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় সময় সরকারের কেউ ছিলেন না মন্তব্য করে এখনকার ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, “তাকে একেবারে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফাঁসানো হয়েছেৃ আপনাদের মনের মধ্যে হল বিএনপির নেতৃত্বকে ধ্বংস করা, তারেক রহমানকে ধ্বংস করা।” আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরেরও সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, “ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, বিএনপি সকল ক্ষেত্রে ব্যর্থ। আমি মনে করি আওয়ামী লীগ সকল ক্ষেত্রে সফল। কী করে ৯ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করতে হবে সেক্ষেত্রে সফল, কী করে ইলিয়াস আলীর মতো সাবেক সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিদের গুম করতে হবে সেক্ষেত্রে সফল, কী করে বেসিক ব্যাংক লুট করতে হবে সেক্ষেত্রে সফল, কী করে বিরোধী দলের আন্দোলনকে রক্তাক্ত কায়দায় দমন করতে হবে সেক্ষেত্রে সফল, কী করে নির্দোষ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখতে হবে সে ব্যাপারে আপনারা সফল। “আর অন্য কোনো বিষয়ে আপনারা সফল নন। মানুষ ধুঁকছে, ব্যাংকে টাকা নাই। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে বেকারত্ব বেশি। শুধু মুখ দিয়ে বাগাড়ম্বর করলে হবে না। আপনারা কোন কোন ক্ষেত্রে সফল তা মানুষ জানে।” পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে দলের ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

আরো খবর...