ঢাবিতে শিবির সন্দেহে ৪ ছাত্রকে পিটিয়ে পুলিশে দিল ছাত্রলীগ

ঢাকা অফিস \ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে চার শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে স্ট্যাম্প ও রড দিয়ে পিটিয়েছে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা ও কর্মী। এরপর অবস্থার অবনতি হলে হল প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশের মাধ্যমে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। ঘটনার পর সকালে শিক্ষার্থীদের থানা থেকে নিয়ে আসেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর ও সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন। চার ছাত্র হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুকিম চৌধুরী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানওয়ার হোসেন, একই বর্ষের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মিনহাজ উদ্দীন ও আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী আফসার উদ্দীন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১১টার দিকে জহুরুল হক হলের গেস্টরুমে ছাত্রলীগের তথাকথিত গেস্টরুম চলাকালে মো. মুকিম চৌধুরীকে শিবির সন্দেহে ডেকে আনা হয়। সেখানে হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা তাদের অনুসারীদের নিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে মানসিক টর্চার করতে থাকে। পরে শিবির সংশ্লিষ্টতা স্বীকার না করায় লাঠি, স্ট্যাম্প ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। মুকিমকে নির্যাতনে কোন কাজ না হওয়ায় পরে তার ফোনের কললিস্ট দেখে সানওয়ার হোসেনকে গেস্টরুমে আনা হয়। সেখানে তাকেও বেধড়ক মারধর করে ছাত্রলীগের নেতারা। এরপর মিনহাজ উদ্দীন এবং আফসার উদ্দীনকে গেস্টরুমে নিয়ে আসে ছাত্রলীগ নেতারা। তাদেরও রাত আড়াইটা পর্যন্ত নির্যাতনের পরে পুলিশে দেয় ছাত্রলীগ। হল সংসদের ভিপি সাইফুল্লাহ আব্বাসী অনন্ত, হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসাইন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা সাংবাদিকদের বলেন, ওই চার ছাত্রের শিবির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছিলেন। প্রমাণগুলো তাঁরা পুলিশকে দিয়েছেন। এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ না পাওয়ায় ওই চার ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শিবির সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ওসি। এ বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীকে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ঘটনার বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান বলেছেন, তিনি জানতে পেরেছেন যে শিবিরসংশ্লিষ্টতা থাকায় চার ছাত্রকে থানায় দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের মারধর করা হয়েছে কি না, তা তার জানা নেই। তিনি বলেন, কারও ওপর শারীরিক আঘাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর বলেন, ছাত্রলীগ হামলা করার জন্য নানা ধরনের অজুহাত সৃষ্টি করে। কখনো তারা বহিরাগত ট্যাগ দেয় কখনো বিতর্কিত নানা ধরনের ট্যাগ দিয়ে দেয়। আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব বিষয়ের বিচার না করায় ক্রমাগত এসব ঘটনা বাড়ছে। ভিপির উপর হামলা করে বলে জামাত-শিবির। এখন তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম কঠোর হ¯েÍ দমন করতে হবে।

আরো খবর...