ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে গিয়ে ডেঙ্গুতেই আক্রান্ত হলে আড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান

ইউপি চেয়ারম্যানসহ আক্রান্ত শতাধিক

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করার পরও ঠেকানো যাচ্ছেনা এডিস মশাকে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আড়িয়া ও খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা শতাধিক পার হয়েছে। এডিস মশা নিধন ও আক্রান্তদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়াসহ ডেঙ্গু নিধন করতে গিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ আনছারী বিপ্লব ও স্বাস্থ্যকর্মী ওয়ালিউর রহমান। তারা বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত মঙ্গলবার খলিষাকুন্ডি ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে জোসনা খাতুন (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ১৯ আগষ্ট সকালে বিলগাথুয়া গ্রামের চালন বেগম (৩৫) আরও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার সর্ব প্রথম আড়িয়া ইউনিয়নে ছাতারপাড়ার দাড়পাড়া গ্রামের ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়। বর্তমানে ওই গ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫২ জন ছাড়িয়েছে। ডেঙ্গু রোগের কারণ অনুসন্ধান ও তথ্য সংগ্রহে গত সপ্তাহে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রন ও গবেষণা ইনষ্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর ৪ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল ছাতারপাড়ার দাড়পাড়া গ্রামে কাজ করেছেন। সব মিলিয়ে আড়িয়া ইউনিয়নেই ৮০ জন ডেঙ্গু রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া পার্শ¦বর্তী খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে শনাক্ত করা হয়েছে আরও প্রায় ৩০ জনকে। এছাড়াও উপজেলা সংলগ্ন সেন্টারপাড়া, রিফায়েতপুর, শিতলাইপাড়া, মহিষকুন্ডি, বৈরাগীরচর গ্রামে  প্রায় ১৫ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। শনিবার বিকেলে উপজেলা সংলগ্ন সেন্টারপাড়া এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী শাহীনা খাতুন (৬০) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বৈরাগীরচর গ্রামের ৪জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কয়েকদিন আগে কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে যারা কাজ করছেন তারাও রয়েছেন শংকার মধ্যে। ডেঙ্গু রোগিদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও রোগি শনাক্তকরণের কাজ করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন ছাতারপাড়া কমিউিনিটি ক্লিনিকে কর্মরত সিএইসিপি ওয়ালিউর রহমান। তিনিও গত বুধবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়াও শনিবার আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ আনছারী বিপ্লব ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিরলস শ্রম দিয়ে তিনিও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি ডেঙ্গু রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ডেঙ্গু রোগী শনাক্তে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে টিম কাজ করছেন। আড়িয়া ইঊনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ আনছারী বিপ্লব বলেন, তার ইউনিয়নের মানুষ সবচেয়ে এডিস মশার আক্রমনের শিকার হয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশ মোতাবেক দিন রাত সেখানে কাজ করছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করতে গিয়ে নিজেও ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে তিনি জানান।  দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তারের নেতৃত্বে আড়িয়া ও খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে প্রতিদিনই পরিস্কার পরিচ্ছনতা অভিযান, এডিস মশা ও তার লার্ভা নিধনে ঔষধ স্প্রে এবং জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম চালানো হয়েছে এবং তা চলমান রয়েছে।  এবিষয়ে  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন ও মশা নিধনে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহন করার পরও কেন এডিস মশা ও ডেঙ্গুতে রোগ নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না সে বিষয়ে নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গ্রামবাসীকেও আরো সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সর্বপরি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রনে শুধু প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর নির্ভর না করে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা পরিস্কার করার পাশাপাশি সকলে নিজ নিজ দায়িত্বে সচেতন হলে অপরকে সচেতন করলে ডেঙ্গু অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রনে আসবে। আর এমনটাই মনে করেন সচেতন মহল।

আরো খবর...