ডেঙ্গু নয়, আ. লীগ নেতাদের মস্তিস্ক পরীক্ষা দরকার – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ দেশ উন্নত হচ্ছে বলেই ডেঙ্গু হচ্ছে, যে দেশ যত বেশি উন্নত হচ্ছে সে দেশে তত বেশি রোগের প্রকোপ বাড়ছে -বলে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, আসলে ডেঙ্গু নয়, আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীদের মস্তিস্ক পরীক্ষা করা দরকার। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন। গত বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় এক সেমিনারে বক্তব্যে ডেঙ্গু নিয়ে স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘ডেঙ্গু এলিট শ্রেণির একটি মশা। এ মশা সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, কলকাতা শহরে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন উন্নত দেশ হতে যাচ্ছে। তাই এখন দেশে ডেঙ্গু এসেছে। মানুষের যত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে তত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।’ তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘মন্ত্রীর এহেন বক্তব্যকে ‘টক অব দি সেঞ্চুরি’ বলবো নাকি ‘শক অব দি সেঞ্চুরি’ বলবো, এ নিয়ে দ্বিধায় আছি। মধ্যরাতের নির্বাচন করে আওয়ামী মন্ত্রিসভায় এডিস মশাবিস্তারের মতো গবুচন্দ্র মন্ত্রীদেরও বিস্তার ঘটেছে। দেশব্যাপী যেমন এডিস মশারবিস্তারে কোনো বিরতি দেখা যাচ্ছে না, ঠিক তেমনি নব কলেবরে গবুচন্দ্র মন্ত্রীদেরও হাসি-তামাশা উদ্রেককারী কথাবার্তারও কমতি দেখা যাচ্ছে না। পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী কোন ব্যুরো থেকে উল্লিখিত তথ্যসমূহ সংগ্রহ করেছেন তা জানালে দেশবাসীর উপকার হতো। দেশ উন্নত হলে যদি রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায় তাহলে লন্ডন, নিউইয়র্ক, প্যারিস, কোপেনহেগেন ইত্যাদি উন্নত দেশের শহরগুলোতে ডেঙ্গুতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাতো। এহেন মন্ত্রীদের উদ্ভট বোলচালে জনজীবন ডেঙ্গুর মতোই বিপর্যস্ত। আসলে ডেঙ্গু নয়, আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীদের মস্তিস্ক পরীক্ষা করা দরকার। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিবিসির সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন-এডিস নিয়ে মিডিয়ার বাড়াবাড়িতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মূলত মেয়র থেকে শুরু করে মন্ত্রীরা এমনকি প্রধানমন্ত্রীও ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষের দুঃখ-দুর্দশাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে ঠাট্টা মশকরা করছেন। অথচ সারাদেশে হাসপাতালগুলোতে কোনো ঠাঁই নেই। ডেঙ্গু রোগীতে ছেয়ে গেছে সব হাসপাতাল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও রক্ত পরীক্ষা করতে পারছে না রোগীরা। কেউ কেউ অনেক কষ্ট করে রক্ত পরীক্ষা করেও রিপোর্ট পেতে হয়রানির শিকার হচ্ছে। যেদিন রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলা হয়, সেদিন রোগীরা রিপোর্ট পান না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রিপোর্ট নিয়ে প্রচন্ড দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের পরিবারগুলোকে। আবার হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরেও সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে অসংখ্য শিশুসহ নানা বয়সী মানুষ। হাসপাতালে বেড না পেয়ে মেঝেতে কাতরাচ্ছে শিশু বাচ্চারা। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কোনো সক্ষমতা নেই এই সরকারের। উন্নয়নের নামে পকেট ভারী করার জন্যই আজকে ডেঙ্গুর মতো এই দুর্যোগ মোকাবেলায় অক্ষম সরকার। খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে রিজভী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখনও গুরুতর অসুস্থ। বারবার ইনস্যুলিন পরিবর্তন এবং ইনস্যুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি করার পরেও কোনো অবস্থাতেই তার সুগার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কোনো কোনো সময় এটি ২৩ মিলিমোল পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে। সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে খাবারের পরিমাণ অনেক কমিয়ে দেয়াতে শরীরের ওজন অনেক হ্রাস পেয়েছে। যথাযথ চিকিৎসার বিষয়ে বারবার দাবি করা সত্ত্বেও দেশনেত্রীকে উন্নতমানের যন্ত্রপাতি উন্নত দেশের কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। ব্যাথার কারণে রাতে তার ঘুম হচ্ছে না এবং সারাক্ষণ তিনি অস্থির থাকছেন। দেশনেত্রীর সুস্থ জীবন প্রত্যাশা করছে দেশবাসী। কিন্তু সরকারের নির্মম আচরণে নিরাশ হয়ে পড়েছে তারা। কারাগারে নেয়ার সময় সুস্থ বেগম জিয়াকে এখন হুইল চেয়ারে চলাফেরা করতে হয়। দেশবাসী দেশনেত্রীর জীবনের পরিণতি নিয়ে এখনও অজানা আতঙ্ক ও শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার দেশনেত্রীর জীবন নিয়ে মাস্টারপ্ল্যানে ব্যস্ত। এ মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে-গণতন্ত্রের ধ্বংসস্তুপের ওপর জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অন্যের কাছে বিকিয়ে দেয়া। মধ্যরাতের এ সরকার নতুন কাশিমবাজার কুঠি সৃষ্টি করে দেশের মানুষকে পরাধীন করতে এক সর্বনাশা পথে হাঁটছে বলেই গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রোগে-শোকে, ব্যাথা-বেদনায় জর্জরিত রেখে কারাগারে আটকে রেখেছে। তার জামিনে বাধা দেয়া হচ্ছে। আদালতের কথাতেই মনে হচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া কিছু হবে না। তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে দেশবাসী এবং বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরকে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ঈদুল আজহার পূর্বেই মুক্তি দিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরো খবর...