ট্রাম্পের নির্দেশেই ইরানের কুদস বাহিনীর প্রধানের উপর বিমান হামলা

ঢাকা অফিস ॥ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই ইরানের বিপ্লবী এলিট কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানির গাড়ি বহরে বিমান হামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ‘পেন্টাগন’। ভবিষ্যতে ইরানকে যেকোনো হামলার পরিকল্পনা থেকে বিরত রাখতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে বিদেশি জঙ্গি বাহিনীর প্রধান উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে পেন্টাগন জানায়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশক্রমে মার্কিন সামরিক বাহিনী বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের রক্ষার উদ্দেশ্যে কাসেম সোলাইমানির উপর হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ভবিষ্যতে ইরানকে যেকোনো ধরনের হামলার পরিকল্পনা থেকে বিরত রাখতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। একই সঙ্গে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবস্থান করা মার্কিন নাগরিকদের রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ হামলার পর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের উপর কয়েকটি হামলা করতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর সেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবেই এই হামলা করা হয়েছে। শুক্রবার ইরাকের বাগদাদের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের বিপ্লবী এলিট কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরান সমর্থিত পপুলরার মবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) উপ-প্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। ইরাকি সামরিক বাহিনী জানায়, বাগদাদের ওই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাসেম সোলাইমানির গাড়িবহরকে লক্ষ্য করে মোট তিনটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়। তবে এই হামলায় মোট কতজন নিহত হয়েছেন তা জানায়নি তারা। হামলায় মোট কতজন নিহত হয়েছেন তা না জানালেও ইরানের এলিট কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরান সমর্থিত পিএমএফ বাহিনীর উপ-প্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসের নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পিএমএফ। একই সঙ্গে তাদের দুইজনকে ‘শহীদ’ বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।  এর আগে পিএমএফ জানিয়েছিল, ইরানের এলিট কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে বহনকারী দুইটি গাড়ি মার্কিন রকেট হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে। তাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল পিএমএফ কর্মকর্তারা। এদিকে হামলার পর থেকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের ইরান দূতাবাসের আকাশে একটি মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার টহল দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে আমেরিকা ইরাকের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে যা চলমান উত্তেজনাকে আরো তীব্র করতে পারে।

আরো খবর...