জৈব কৃষির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে

 মিরপুরে কৃষকদের প্রশিক্ষনকালে কৃষিবিদ চন্ডীদাস কুন্ডু

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে নিরাপদ উদ্যানতাত্ত্বিক ফসল উৎপাদন ও সংগ্রহত্তোর প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষক/কৃষানীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে কৃষি প্রশিক্ষণ হলরুমে “নিরাপদ উদ্যানতাত্ত্বিক ফসল উৎপাদন ও সংগ্রহত্তোর প্রযুক্তি সম্প্রসারণ” প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষের সভাপতি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং এর পরিচালক কৃষিবিদ চন্ডী দাস কুন্ডু। এসময় তিনি বলেন, জমিতে বালাইনাশক ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, মাটির গুণগতমান নষ্ট হচ্ছে, উদ্ভিদ-ফসলে ব্যাপকভাবে প্রভাব পড়ছে, বাদ যাচ্ছে না জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্যহীনতা। বালাইনাশকের মধ্যে কীটনাশক আবার বেশি ব্যবহৃত হয় কেননা এর প্রাপ্যতা আর পোকার পরিচিতি অনেক বেশি এবং দীর্ঘদিনের। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে  টোটাল কৃষি ব্যবস্থাই পাল্টে গেছে। এ পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশে অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্প ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে চাষাবাদ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষাবাদ প্রযুক্তি কৌশল বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হচ্ছে। কিন্তু এটাতো ঠিক স্থানীয় ও উন্নত চাষাবাদ প্রযুক্তি ও ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা তাপমাত্রার তারতম্য, বৃষ্টিপাতের ধারার পরিবর্তন, দিনের দৈর্ঘ্য মোটকথা প্রকৃতির  হেয়ালিপনা। আবহাওয়া জলবায়ুর তারতম্যের ফলে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর পোকা, পোকা বহনকারী রোগ বিভিন্ন ফসলে আক্রমণ করছে, যার ফলে ফলন কমে যাচ্ছে। চাষিরা ভালো ফলন না পেয়ে অভিযোজন বা খাপ খাওয়ানোর কৌশলসমূহ স্থায়ীভাবে ব্যবহার করছে না। কিছু কিছু এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ফসল, ফল, শাকসবজিসহ অন্যান্য ফসল ভালো ফলন দেয়া শুরু করলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বর্তমানে আর তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, পরিবেশসম্মত বা পরিবেশবান্ধব কৃষি বাস্তবায়ন করতে হলে জৈব কৃষির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।  জৈব কৃষিতে জৈবসার, জৈব বালানাশক, জৈব ব্যবস্থাপনা প্রধান।  জৈবিক বালাই ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে বিভিন্ন পোকামাকড় ও  রোগ দমনের জন্য সমন্বিত বালাই দমনব্যবস্থা, উপকারী বন্ধু পোকার ব্যবহার, পোকার সেক্স ফেরোমন ব্যবহার করা। আইসিএম-আইপিএম পদ্ধতির মাধ্যমে কীটনাশকের ব্যবহারে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেকখানি কমে যাবে এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশে সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে ফসলে বালাই দমন দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত আছে। জৈবিকভাবে ফসলের বালাই দমন আইপিএমের একটি লাগসই প্রযুক্তি যা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। জৈবিক পদ্ধতিতে বালাই দমন ব্যবস্থাপনায় যে সব উপাদান-পণ্য রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো উপকারী বন্ধু পোকার লালন ও পোকার সেক্স ফেরোমন ব্যবহার করা। তাই কৃষকভাইদের প্রতি আমাদের আহবান আপনারা নিরাপদ ফসল উৎপাদন করুন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক কৃষিবিদ শ্যামল কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার সুশান্ত কুমার প্রামানিক, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিষ্ণু পদ সাহা, মিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা প্রমুখ।

আরো খবর...