জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলায় খালেদার জামিন নাকচ

ঢাকা অফিস ॥ জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন নাকচ করেছে হাই কোর্ট। টানা দুই দিন শুনানি নিয়ে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার আবেদনটি খারিজ করে দেয়। তলবের দুই মাসের মধ্যে গত ২০ জুন এ মামলার রেকর্ড (মূল নথি) হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা পড়লে গত ২৩ জুন নথিভুক্ত জামিন আবেদনটি উপস্থাপন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। এরপর মঙ্গলবার আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়। বুধবার খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও দুদকের আইনজীবীর বক্তব্য শোনে আদালত। খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নুল আবেদীন ও মাহবুবউদ্দিন খোকন। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অপরাধের গুরুত্ব, সংশ্লিষ্ট আইনের সর্বোচ্চ সাজা এবং বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদাসহ অন্য আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত- এ তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আবেদনটি সরাসরি খারিজ করা হয়েছে বলে অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন। জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে আসা প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ চার আসামির সবাইকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদন্ড দিয়ে গত বছর ২৯ অক্টোবর রায় দেয় বিচারিক আদালত। পাশাপাশি তাদের ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়। আর ট্রাস্টের নামে কেনা কাকরাইলের ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়। ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান এ মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন। রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি হাতে পাওয়ার চার দিন পর গত বছর ১৮ নভেম্বর খালেদার দন্ড বাতিল ও খালাস চেয়ে হাই কোর্টে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। ৬৩৮ পৃষ্ঠার মূল রায়সহ প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার এই আপিলের সঙ্গে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদার জামিন আবেদনও করা হয়। গত ৩০ এপ্রিল ওই আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাই কোর্ট। সেদিন বিচারিক আদালতের রায়ে দেওয়া অর্থদন্ড স্থগিত এবং সম্পত্তি জব্দের আদেশে স্থিতাবস্থা দেওয়ার পাশাপাশি খালেদার জামিন আবেদনটি নথিভুক্ত করে মামলার নথি তলব করে হাই কোর্ট।

আরো খবর...